বুড়ো লোগানের মৃত্যুর আগে

উলভারাইনের আরেক নাম লোগান। তিনি মোটামুটি চিন্তায় ফেলে দিছিলেন। অল্প সময়ের জন্য। ‘লোগান’ নামের আপকামিং সিনেমায় তারে বুড়ো দেখা যাবে। চামড়া কুঁচকে যাওয়া. থরথর করে কাঁপতে থাকা হাত। প্রশ্ন হলো— সুপারহিরো বুড়ো হয় কেমনে? অনেক দেরিতে মাথায় আসল সুপারহিরো যদি বাচ্চা বা বালক হতে পারে বুড়ো হইতে পারবেন না অথবা মরবেন না ক্যান? সুপারম্যানের মরে যাওয়া দেখাইতে গিয়া যদিও ভোল পাল্টে ফেলে ‘ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান’।

‘লোগান’ নামের আপকামিং সিনেমায় তারে বুড়ো দেখা যাবে। চামড়া কুঁচকে যাওয়া. থরথর করে কাঁপতে থাকা হাত। প্রশ্ন হলো— সুপারহিরো বুড়ো হয় কেমনে?

‘লোগান’ নামের আপকামিং সিনেমায় তারে বুড়ো দেখা যাবে। চামড়া কুঁচকে যাওয়া. থরথর করে কাঁপতে থাকা হাত। প্রশ্ন হলো— সুপারহিরো বুড়ো হয় কেমনে? লোগান চরিত্রে আছেন হিউ জ্যাকম্যান।

ঘটনা হলো আগে এক্স-মেন সিরিজের কোনো মুভি পুরো দেখা হয় নাই। টিভিতে দেখছি যৎসামান্য। তাও আবার রিপিটেশন। যেহেতু আমি মোটামুটি একই সময়ে বাসায় থাকি, বাকি সময় অফিসে। টিভিতেও মোটামুটি নির্দিষ্ট মেনে সিনেমা দেখায়। তাই যখনই এক্স-মেন দেখি, মনে হয় আগে কখনো না কখনো দেখছি। এমনও হতে পারে— কোনো দৃশ্য প্রথমবারই দেখলাম, অভ্যাসের কারণে মনে হলো আগে দেখছি। নাকি অভ্যাস ছাড়াও ব্যাপারটা সম্ভব! এ সত্ত্বেও কিছু কিছু ব্যাপার তো আকর্ষণীয় ছিল। তারপরও পুরো দেখার আগ্রহ হয় নাই ক্যান জানি?

এক্স-মেন তো মিউট্যান্টদের গল্প। জেনেটিক্যালি তাদের মধ্যে আলাদা কিছু ব্যাপার আছে। স্বাভাবিকভাবে বিবর্তনের নিয়মে মডিফিকেশন হতে পারে। এক্স-মেনে মনে হয় সে রকম না? তাদের মাঝে অস্বাভাবিক অনেক ব্যাপার আছে। যেমন প্রফেসর জেভিয়ারের টেলিপ্যাথির ক্ষমতা আছে। সিনেমায় মেশিন-টেশিন দিয়া দেখায়। তাই ব্যাপারটা বিজ্ঞানসম্মত। টেলিপ্যাথিরে যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ঢুকানো স্মার্টনেস হইসে। আজগুবি ব্যাপার আমাদের ভালো লাগে। তাই ঘটছে। ঠিক এই কারণে না— অন্য কারণে এক্স-মেন দেখা হয় নাই। তা হলো এক্স-মেনদের মধ্যে ভারিক্কি ধাঁচের ব্যাপার আছে। এক্স-মেন হওয়ারে তারা যেন ট্র্যাজেডি আকারে নিছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ পরিচয় লুকায়া ঘর-সংসার করে। কিন্তু বেশি দিন লুকানো (খুশকির মতো) যায় না। আবার জেভিয়ারের স্কুলে (জেভিয়ার স্কুল ফর গিফটেড ইয়ংস্টারস) পড়াইয়া যতই সভ্য বানানোর চেষ্টা করা হোক— তারা কেন জানি কোনো না কোনো ট্র্যাজেডির অংশ হয়া যায়। মানব জাতির জন্য ক্ষতিকারকও বটে। যতদূর দেখছি— মনে হয় বিপদ থেকে উদ্ধারে এক্স-মেনদের একত্র হইতে হইতে বেশি সময় বয়ে যায়। এছাড়া দৃশ্যায়নে ডার্ক ব্যাপার আছে। এটা অস্বস্তি তৈরি করে। একটা গম্ভীর খ্রিস্টিয় ব্যাপার-স্যাপার আছে। যিশুর বিষাদ, আত্মত্যাগের রোমান্টিকতা ভর করে মনে। অথচ রঙিন জীবনই আমি যাপন করতে চাই। এক্স-মেন সে স্বপ্নে বাধা দেয়।

আরো পড়ুন : সুপারহিরোর ধর্মভাব

লোগানরে এ সিরিজ বা স্পিন অফে যতবার যতভাবে দেখছি তাড়া খাইয়া যাইতে দেখছি, স্মৃতি ফিরে না পাওয়ার যন্ত্রণায় কাঁদতে দেখছি। এ এক আজব চিড়িয়াখানা। এক্স-মেনের যন্ত্রণা আমাদের বিনোদনের খোরাক। ব্যাপারটা মানবিক না। ‘এক্স-মেন : অ্যালোক্যাল্পিস’-এ মিনিট চার-পাচেঁকের জন্য লোগানের উপস্থিতি ছিল। এটা মূলত তার শেষ সলো মুভির ইঙ্গিত।

‘এক্স-মেন’রা সকল যন্ত্রণা বা বেদনার ভার লয়ে যেন আমাদের মানে স্বাভাবিক মানুষদের বাঁচাতে চান। জগতে অন্যের যন্ত্রণাকে বড় করে দেখানো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অনাঘ্রাত রোমান্টিকতা বৈ কিছু না। পুষ্প যদি আপনার জন্য ফুটত বোঝা যাইত ব্যাপারটা্!

‘এক্স-মেন : অ্যালোক্যাল্পিস’ এমন এক সিনেমা যেখানে নানা নামে নানা সময়ে জাগ্রত হওয়া ঈশ্বরের পক্ষে-বিপক্ষে সৈন্য সামন্ত যোগাড়েই সিনেমা শেষ। সবচেয়ে দুরবস্থা হলো মানুষের। তারা সম্ভবত এক্স-মেনের দুনিয়ায় গিনিপিগ। রোবটের সিনেমা বানাইতে বানাইতে সিনেমার গন্তব্য হয়া পড়ছে মানুষ রোবটের হাতের পুতুল। এক্স-মেনে একই অবস্থা।

আরো পড়ুন : আয়নাবাজি ও অবশিষ্ট

রফেসর জেভিয়ারের টেলিপ্যাথির ক্ষমতা আছে। সিনেমায় মেশিন-টেশিন দিয়া দেখায়। তাই ব্যাপারটা বিজ্ঞানসম্মত। টেলিপ্যাথিরে যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ঢুকানো স্মার্টনেস হইসে। আজগুবি ব্যাপার আমাদের ভালো লাগে। তারপরও গ্রাম বাংলায় আইসা স্রেফ আমেরিকান জ্বীন হয়ে যায়!

প্রফেসর জেভিয়ারের টেলিপ্যাথির ক্ষমতা আছে। সিনেমায় মেশিন-টেশিন দিয়া দেখায়। তাই ব্যাপারটা বিজ্ঞানসম্মত। টেলিপ্যাথিরে যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ঢুকানো স্মার্টনেস হইসে। আজগুবি ব্যাপার আমাদের ভালো লাগে। তারপরও গ্রাম বাংলায় আইসা স্রেফ আমেরিকান জ্বীন হয়ে যায়!

তো, এখানে ভিলেন মমি থেকে জাগ্রত হয়। এটাতে দুই ধরনের হোঁচট খাইলাম। প্রথমত. টম ক্রুজের অভিনয়ে রিবুট হচ্ছে বিখ্যাত ‘দ্য মামি’। ওই সিনেমাও মামি ব্যাপারটা আগের মত খারাপ হবে। তাইলে নতুন কী দেখাবে, যেখানে এক্স-মেনে ব্যাপার ট্রু-ফলস গডের মধ্যে গড়াইছে। আরেকটা ব্যাপার হল— হলিউড সিনেমায় সবসময় খারাপ মমিগুলোই জাগ্রত হয় ক্যান? ভাল মমি বলে কিছু নাই? আমার অনুমান হলো ব্যাপারটা ধর্মীয়। ইহুদীদের নবী হযরত মুসা (আ.) এর সাথে ফারাওদের যে দ্বন্দ্ব— তাই হয়তো মমি কেন্দ্রিক সিনেমাগুলোতে উঠে আসতেছে।

এ হলো ‘এক্স-মেন : অ্যাপোক্যাল্পিস’ কেন্দ্রিক অভিজ্ঞতা। সিনেমাটি দেখছি একমাস আগে। তাই ওই সময়ের ভাবনাগুলো পুরা মনে নাই।

আরো পড়ুন : বার্ডম্যান : ভালো লাগা আর না লাগা

লোগান চরিত্রে হিউ জ্যাকম্যান

লোগান চরিত্রে হিউ জ্যাকম্যান

সুপারহিরো নিশ্চয় অসাধারণ একটা আবিষ্কার, এই মনুষ্য প্রজাতির। দুঃখের বিষয় কি জানেন— এ দুনিয়ার মানুষের স্বাধীনতা সাধারণত যেমন কাল্পনিক, সুপারহিরোর বিষয়টাও তেমনই। অথচ দেখেন সুপারহিরোকে সার্কাসের বাঘ বা সিংহের বেশি মনে হওয়ার কিছু নাই। তাদের কিছু ক্ষমতা আছে তা অপরাপর মানুষ মেনে নিতে পারে না। বা মানুষের দুনিয়ায় স্বাধীনভাবে কিছুর বিকাশের স্বাধীনতা নাই।

‘এক্স-মেন’র জেভিয়ারের ইস্কুলের কথা তো জানেনই। সম্প্রতি ‘সিভিল ওয়ার’ সিনেমায় সরকারের নিয়ন্ত্রণের আওতায় থাকা না থাকা নিয়ে ক্যাপ্টেন আমেরিকা ও আয়নম্যানের দল পাকানোর ঘটনা অদ্ভুতই লাগে। মানে আলাদা শত্রু লাগতেছে না আর। অন্যদিকে, ‘ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান’-এও একই ঘটনা। আদালতে পর্যন্ত যাইতে হলো সুপারম্যানকে। লেক্স লুথারকে ভিলেনের চেয়ে কমেডিয়ানই লাগে। শত্রু লাগে ব্যাটম্যানকে। কমিক বইয়ে এই কাহিনী হয়তো পুরানা কিন্তু সিনেমার বৈশ্বিক অবদানে তা নতুনই।

আরো পড়ুন : পিপিলীকার পাখা গজায় ‘অ্যান্ট ম্যান’কে বহিবার তরে

সুপারহিরো সিনেমায় সর্বশেষ যোগ হওয়া ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন বেনেডিক্ট ক্যাম্বারব্যাচ।

সুপারহিরো সিনেমায় সর্বশেষ যোগ হওয়া ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন বেনেডিক্ট ক্যাম্বারব্যাচ।

সুপারহিরো সিনেমায় সর্বশেষ যোগ হওয়া ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’র শেষদিকের একটি একটা বিষয় উল্লেখ না করে পারছি না। তাতে দেখা যায়, সময় রিভার্স করার ক্ষমতার আছে ‘আ্নসায়েন্ট ওয়ান’র চ্যালা ডক্টর স্ট্রেঞ্জের। শেষে ওই কাজ করে হংকং শহরের মানুষরে বাঁচাইয়া দেন তিনি। অথচ ওই ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও প্রকৃতির নিয়ম লঙ্ঘন করা যাবে না বলে শর্ত জুড়ে দেওয়া থাকে তিব্বতীয় প্রাচীন শাস্ত্রে। এ কারণে স্ট্রেঞ্জকে ছেড়ে যায় তার সহকারী কার্ল মর্ডো। অর্থাৎ, জগত ধ্বংস হয়ে যাক— তারপরও যেটাকে নিয়ম হিসেবে জানানো হইছে তাই আসল। একে যে কোনোভাবে ঠিকায়া রাখতে হবে। গোজামিল দিয়া হলেও। যেমন- ‘আয়নাবাজি’ সিনেমায় গোজামিল দিয়া নায়করে বাঁচানো হলো। কারণ ধরা হয়ে থাকে, নায়ক মরলে সিনেমা হিট হয় না।

কথা নিশ্চয় আরো আছে। আপাতত এখানেই শেষ করি— সুপারহিরো আমাদের মুক্তির স্বাদ দিলেও তার শেষ গন্তব্য নিজ নিজ সাম্রাজ্য চিন্তার চৌহদ্দির ভেতরে। যেটা ঘটমান বর্তমানেই বিরাজ করে। হোক না আগের বা পরের কাহিনী। সম্ভবত লোগানও তেমন ট্র্যাজেডির শিকার। মানবতার গিনিপিগ।

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *