স্নায়বিক চাপ

রশিদ সাহেব সেদিকে ফিরতে দেখলেন মহিলা তার দিকে অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন। তিনি ভাবলেন তার প্রাক্তন স্ত্রী তাইলে খুব বেশি বাড়িয়ে বলে নাই। সে বলত, তুমি একটা ঠান্ডা মাথার খুনী। তোমার চোখের দিকে তাকালেই তো ভয় লাগে। তোমার সাথে কোন মহিলা সংসার করতে পারবে না।

এক.

বরাবরের মতো সেই রাতেও রশিদ সাহেব একা একা রাতের খাবারটি সেরে নিচ্ছিলেন। কোন কারণ ছাড়াই সেদিন অফিস থেকে বাসার দিকে না গিয়ে উল্টো পথ ধরলেন। একজন যুক্তিবাদী মানুষ হিসেবে অকারণকে প্রশ্রয় দেয়া উচিত নয়। তারপরও তিনি অকারণকে মেনে নিলেন। মিনাক্ষী সিনেমার উল্টো দিকে যে রেস্টুরেন্টটি আছে- বে ভিউ রেস্টুরেন্ট, সেখানেই খাচ্ছিলেন। আলো-আধারী পরিবেশ।  খাবারের মেন্যুতে চোখ রেখেই তার কান আশে পাশের কথাগুলো চেখে নিচ্ছিল।

‘আমি মশকরা করছি না, আমার ননদ প্রতিদিন রাতে পাঁচ বছর আগে মরে যাওয়া স্বামীর জন্য টেবিলে খাবার সাজিয়ে অপেক্ষা। এটা নিয়ে দ্বিতীয় স্বামীর সাথে তার রোজ ঝগড়া হয়’।

‘আমার চাচাতো মরিয়মের মতো অবস্থা। সে তো প্রায় ভুল করে প্রেমিকের নাম ধরে স্বামীকে ডাকে। আরে আমি নিজের কানে শুনেছি’।

যত্তোসব অর্থহীন কথাবার্তা। কোন মানে হয়!

আরো পড়ুন »

মান্দি আত্মার বিলাপ

শিকড়ে খরা। মিঠুন রাকসাম। প্রকাশক: থকবিরিম। প্রথম প্রকাশ: একুশে বইমেলা ২০১১। প্রচ্ছদ: এম. আসলাম লিটন। ৪৮ পৃষ্টা। দাম: ৭০ টাকা।

মান্দিগ্রাম। যাকে আমরা গারো পল্লী বলি। শহুরে শিকারী মানুষদের ফসিল শিকারের উৎকৃষ্ট স্থান। নিজেদের অস্বাভাবিকত্ব আর বিকৃতির বাইরে যা আছে তাকে আমরা নানা নামে ডাকি। কেউ কেউ বলেন- মান্দিরা এই প্রগতির সংসারে অগতির মধ্যে আছেন (সুবিধা বঞ্চিত)। তারা যেন দূরে কোথাও ছিটকে পড়েছে- তাদেরকে মানুষ করা দরকার। জীবনের স্বাভাবিক সৌন্দর্য, প্রাকৃতিকতা ও বৈচিত্র্যকে সমচেতনার নামে গলা টিপে হত্যা করতে হবে। অন্যরা নিম্ন বর্গীয় নামে ডাকেন। তারা নিশ্চিত উচ্চ বর্গীয়। এই বলাবলির ধরণ থেকে তাদের মোড়লীপনা- দিগগিরি সাফ সাফ বুঝা যায়। তারা নানাভাবে মান্দিদের কেটে-খুটে দেখেন। বিষম বিনোদন বটে।

আরো পড়ুন »

চোখ

আর কিছুই নয়

অধরা শব্দের বুনট মাত্র

রাত্রিকে ঘুম পড়ায় গান শুনিয়ে

দিবসে কথার ফুলঝুরিতে একাকার।

 

ক্লান্তি চোখের সহোদরা-

মধুর একাকীত্বে ভাই-বোন

খেলছি এক্কা দোক্কা।
আরো পড়ুন »

তৃতীয় বিশ্বে কথাহীন এক ঘন্টা

মুকনাটকটির প্রথম প্রদর্শনী হয়েছিলো ২০১১ সালের ২৮ মে। ইতিমধ্যে নাটকটির ছয়টি প্রদর্শনী সম্পন্ন হয়েছে। এই লেখাটি প্রথম প্রদর্শনীর পর লেখা। সে সময় রাজনৈতিক.কম-এ প্রকাশিত হয়েছিলো।

চারদিকে কথা আর কথা। কেউ বলছে কেউ শুনছে;কেউ শুনছে কেউ বলছে।কেউ দলবল নিয়ে বলছে;কেউ দলবদল করে বলছে।এই বলাবলি আর শুনাশুনিতে কে কি বলছে তা স্পষ্ট নয়, তবুও আমরা বলে যাচ্ছি।আমাদের কাজ বলতে থাকা আর শুনতে থাকা।প্রতিদিন প্রতিক্ষণ এই করি,বিরক্ত হই আবার করি।এরমধ্যেই আমাদের বসবাস। কেউ তর্ক তুলতে পারেন এরমধ্যে শুদ্ধ কাজ কি? মশায়,শুদ্ধতার বাতিকগ্রস্থ হলে দুনিয়া চলে না।কিন্তু বাতিক যেহেতু আছে, সে বাতিকের সবটা নিশ্চয় বাতিক নয়। থাক, তর্ক-বিতর্কের ঝড় না তুলে একটা ঘন্টা যদি এই বলাবলি-শুনাশুনি থেকে বিরত থাকা যায়,কেমন হয় বলুন তো?

খানিকক্ষণ জ্বালাময়ী বক্তৃতা শোনা হয়ে গেল। চট্টগ্রাম শহরের মুসলিম ইনস্টিটিউটের সামনের শহীদ মিনার, উদীচির অনুষ্ঠান চলছিল। আমরা আর মানুষ হলাম না!আমরা আর সেক্যুলার হলাম না! বাঙ্গালী হয়ে উঠলাম না! চারিদিকে যুদ্ধাপরাধী,জঙ্গী,মাদ্রাসা গিজগিজ করছে,তার উপরে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। এইগুলো রাষ্ট্রের প্রধান সমস্যা। এগুলো নিয়ে চিল্লা-ফাল্লা চলছে, চলবে। ভাবতেছিলাম এর বাইরে দেশে আর কি কি সমস্যা আছে।যেগুলোকে রাষ্ট্রের সুনাগরিকদের বড় একটা অংশ আমলে নেন না।এর মধ্যে একজন আবৃত্তি শুরু করলেন।পাশে থেকে একজন হেসে উঠলে চোখ পাকিয়ে তাকালাম। তিনি বললেন, এটা কোন যুগের ভাষা। এইসবের সাথে আরো আকাশ কুসুম কিছু ভাবতে ভাবতে মুসলিম ইনস্টিটিউটের পাশের ষ্টুডিও থিয়েটারের সামনে এসে দাড়ালাম।

আরো পড়ুন »

আমরা সবাই আবদুর রহমান

জ্বী হুজুর চলচ্চিত্রের পোষ্টার। বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে আকর্ষণীয় পোষ্টার অনুপস্থিত।

আবদুর রহমান নামটা শুনলে আপনি চমকে উঠতে পারেন। কিন্তু আপনি নিজেই তো আবদুর রহমান। সেই কথাটা আমরা শুনছি জ্বী হুজুর চলচ্চিত্রেরর প্রধান নারী চরিত্র বান্টির মুখে। তার কথার মধ্যে ঠাট্টার  সুর ছিলো বেশ। কিন্তু মানুষে মানুষে সমচেতনা জোরদারে কথাটা নিশ্চয় জোশ। জ্বী হুজুর পরিচালনা করেছেন ২০১০ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারে বেশ কটি বিভাগে পুরষ্কার জেতা ভালোবাসলে ঘর বাধা যায় না-র পরিচালক জাকির হোসেন রাজু। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন মাদ্রাসার ছাত্র নিয়ে একটা চলচ্চিত্র বানাবেন। সেটা গতানুগতিক মোল্লা ধারনার বাইরে। সেই দিক থেকে এই চলচ্চিত্র কৌতুহল তৈরির জন্য যথেষ্ট। এই চলচ্চিত্রের কাহিনী, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন জাকির হোসেন রাজু নিজে।

বাংলা চলচ্চিত্রের বাণিজ্যিক ধারায় ধর্মকে শুভ শক্তি হিসেবেই বরাবর দেখা গেছে। এই জায়গায় জ্বী হুজুর আলাদা কোন বৈশিষ্ট্য নিয়ে হাজির হয় নাই। এটা হলো সাধারণ লক্ষণ। এর বাইরে বিশেষ লক্ষণ হলো এই চলচ্চিত্রের মূল চরিত্র মাদ্রাসা পাশ আবদুর রহমান (সাইমন সাদিক)। যে কিনা শহরে চাকুরীতে যোগ দিতে এসে বাবার বন্ধূর বাড়িতে উঠে।  সেই বাড়িতে বিপরীত সংস্কৃতিক পরিবেশের মুখোমুখি হয়। সমান্তরালে চলতে থাকা আরেক কাহিনীতে থাকেন দেশপ্রেমিক পুলিশ অফিসার ফারুক (জেমি)। রাজনৈতিক তদবিরের  কারণে সন্ত্রাসীদের ধরলেও ছেড়ে দিতে হয়। তাই তিনি তাদের ক্রয়ফায়ারে হত্যা করেন। সেই পুলিশ অফিসার ফারুক সন্ত্রাসীদের আক্রমনে নিহত হন। জীবনের ঝুকি নিয়ে  হত্যা মামলার স্বাক্ষী হন আবদুর রহমান। একজন ঈমানদার মানুষ হিসেবে অন্যায়ের প্রতিবাদ তার কাজ বটে!

আরো পড়ুন »

Follow

Get every new post delivered to your Inbox.