ওহে সোমেশ্বরী

এক. একটি মানুষ সুদূর বেশ যেমন নক্ষত্র তবুও আমরা কী এক পাষাণ বেঁধে নদীটির ঢেউ গুনি। আমরা যখন নীল জলের খোঁজে নদীর কাছে দাঁড়াই, হতাশা আর বিরক্তি জেগে ওঠে। জলে আকাশের ছায়া আমাদের হয়তো খানিক আপ্লুত, খানিক বিহ্বল করত। এখন কিনা সে ‘খানিক’ বিষয়টা মহীরুহ হয়ে কাছাকাছি কোথাও শেকড় বসায়। এভাবে না পাওয়াগুলো ভাবনার চেয়েও…

গোধূলি বেলার নীলুফার ইয়াসমীন

‘এত সুখ সইবো কেমন করে বুঝি কান্নাই লেখা ছিল ভাগ্যে আমার সুখেও কান্না পায় দুচোখ ভরে’। এ ঠিক কেমন সুখ! আর কেমন কান্না! নীলুফারের শ্রোতারা হয়তো টের পেতেন। এখনো পান। কিন্তু যেই অনুভূতিকে কোনো বাইনারি মনে- হয় সুখ নয় দুখ এই দ্বিভাজনের বাইরে- আমরা কি আজ আঁচ করতে পারবো? এই যেন না রাত-না দিন সেই…

জানালা লাগিয়ে গণতন্ত্র রক্ষা

অফিসে আসা-যাওয়ায় তিনটে বাস পাল্টাতে হয়। হালের ট্রেন্ড হলো বাসের জানালা লাগিয়ে বসা। কাঁচ একটুখানি ফাঁক করে বসার জো নাই, চারদিক থেকে রব উঠবে— দেশের কি অবস্থা জানেন না, জানালা লাগান। সে দিন এক ছেলে বারবার জানালা খোলায় বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হলো। অবশ্য চেহারায় গরীবী হালতের কারণে এটা সহজেই সম্ভব হলো। হয়ত! ওইদিন জানালা…

পর্দা

অজস্র চোখের সামনে ঝুলতে থাকো তুমি অসীম বিস্তারে চোখ সীমানা হারালে হিসেব মেলে না শুধু হাওয়ায় দুলতে থাকা তোমার শরীরে লেগে থাকে জলের রেখা ছায়া ও ছোঁয়ার নির্মল দিব্যতায় ঢেকে দিতে চাই আপাত বিবর্ণতা। Comments comments

আমার মনের বাড়ি আমার না

এক. জানুয়ারি মাসের দ্বিতীয় শনিবারে আমাদের অফিসে কোয়ান্টাম মেথডকৃত ধ্যানের ৩০ মিনিটের একটা সেশন হলো। প্রথমদিকে একটা বিষয় ছিল চোখ বন্ধ করে নাক দিয়ে জোরে শ্বাস নেওয়া, মুখ দিয়ে ছাড়া। শরীর থেকে দুষিত কিছু বের করে দেওয়ার একটা ব্যাপার আরকি! প্রথম ধাপেই আমি ফেল্টুস। জোরে শ্বাস নেওয়া ও ফেলাকে খুবই ব্যক্তিগত জিনিস মনে হইতেছিল। আরও…

রাজার ছেলে কিয়ের্কেগার্ড

এ দুনিয়ায় সোরেন কিয়ের্কেগার্ডের দুই-একটা ছবিই মিলে। বিষণ্ন চেহারার একজন মানুষ। রাজ্যের বেদনা-বিরক্তি ভর করেছে তার চোখে-মুখে। সে মানুষটিকে আমি বলি রাজার ছেলে। দর্শন সেতো রাজা। মরিস শ্লিক বা যৌক্তিক প্রত্যক্ষবাদ সম্পর্কিত এক দার্শনিক বলেছিলেন বিজ্ঞানের এ কালে সত্য খোঁজার মতো কোনো কাজ দর্শনের এখতিয়ারে আর নেই। তার কাজ ‘মিনিং’ নিয়ে। সে কোনো কিছু মিনিংফুল…