নামে কি আসে!

এক.
মতিন উদ্দিন বাবার কবরে সামনে দাড়িয়ে ছিলেন। পাখিটি ছিলো তার পেছনে, ছোট্ট কাঠাল গাছটির ডালে। যে গাছটি লাগিয়েছিলেন মোমিন উদ্দিন নামে বাবার এক ভক্ত। তাও বিশ বছর আগে। মোমিন উদ্দিনের বাড়ি ঘর কোথায় কেউ জানে না- যেমন জানে না বাবার চিন-পরিচয়। মোমিন উদ্দিন দিন-রাত বাবার কবরের পাশে শুয়ে জিকির করতেন। তার জিকিরের আওয়াজে সুর তুলত গাছ আর পক্ষীকূল। বাবার শিয়রে গাছ লাগানোর বছর দুয়েকের মধ্যে মাথায় বাজ পড়ে মোমিন উদ্দিন মারা যান। গাছটি আর বড়ো হয় নাই। কেউ কেউ বলে মোমিন উদ্দিনের শোকে গাছটা আর বাড়ে নাই। তার নামেই লোকে গাছটারে চিনে। অনেকে গভীর রাতে গাছটার তলে মোমিনকে জিকির করতে দেখেছেন। গাছের তলে জিকিররত মোমিন উদ্দিনকে দেখা সৌভাগ্য বিষয়, মতিন উদ্দিন অবাক হয়ে ভাবে, এটা তো কখনো ভেবে দেখে নাই।

লোকে বলে-সবই বাবার কেরামতি। আবেগে মতিন উদ্দিনের চোখে পানি চলে আসে। কাঠাল গাছ ভর্তি সুতো, কাপড়ের টুকরো, ছেড়া পলিথিন, আধ-ময়লা দড়ি। দুনিয়ার সব কিছুতে যেমন, এখানেও মানুষ গাছের সবত্র কামনা-বাসনার চাষ করেছে।

মতিন উদ্দিনের হাতে খেজুর গাছের শুকনো ডাল। পাখিটি তখনো গাছে। মতিন উদ্দিন সেদিকে না তাকিয়ে বলেন, ‘আহা! একলা পাখিটা!’
গত কয়েকদিন ধরে তিনি লক্ষ্য করছেন পাখিটি সারাদিন বাবার শিয়রে গাছের ডালে বসে থাকে। কোন নড়ন-চড়ন নাই। কোথায় পায় দানা-পানি! কেন এই অবলা পাখি বাবার শিয়রে! কারো প্রতি বাবার হেলা নাই। দুনিয়ার তাবত মাখলুকাতরে তিনি আশ্রয় দেন।

মতিন উদ্দিন সকাল-বিকেল নিয়মিত চার হাত লম্বা সিমেন্ট বাধানো নাঙ্গা কবরটা পরিষ্কার করেন। চারদিকে সাদা ও লাল রঙ্গের বাশের বেড়া। ছোট একটা গেট আছে। তার উপরে মরচে পড়া টিনে লেখা ‘বাবার দরগা’। প্রতি বছর ফাল্গুন মাসে বাবার দরগায় ওরস হয়। দূর-দুরান্ত থেকে মানুষ জন। চারদিকে নানান রঙের পতাকা দিয়ে সাজানো হয়। এতো আয়োজনের মাঝেও বাবার কোন নাম ছিলো কিনা কেউ জানে না। লোকের মুখে বাবার একখান বাণীর কথা শুনা যায়, নামে কিছু হয় না, যে নামেই ডাকো তপস্যায় আসল খোরাকি। সেই মতে, বাবার নাম নিতে নাই।

বাবা খুবই রাগী। ভক্তি আর ভয়ে লোকে নাম মুখে নেয় না। সেই নাম উচ্চারণ না করতে না করতে লোকে ভুলে গেছে। তাই মানুষ বলে বাবা পীর। মতিন উদ্দিন তার বাপের কাছে শুনেছিলো এক মাতাল নাকি বাবার শিয়রে এসে নাম ধরে বলে ছিলো- …. তোর ক্ষমতা। সেই লোক নাকি রক্ত বমি করতে করতে মারা গিয়েছিলো। আবার কেউ কেউ বলে এই লোক নাকি এক সময় দরগার বড়ো খেদমতগার ছিলো।

মতিন উদ্দিনের ইদানিং কি যেন হয়েছে। যখনই কবরটার সামনে এসে দাড়ান- বাবার পায়ের কাছে দাড়িয়ে সালাম জানান- ইচ্ছে করে বাবাকে নাম ধরে ডাকেন। তার কানে কানে কে যেন বলে, নামের আলাদা তরিকা আছে, সেই তরিকা সবাই ধরতে পারে না। মানুষ যেমন একেকটা নামে একেকটা জিনিস চিনতে পারে- সেরকম। নামের দরকার আছে বলেই আল্লাহ আদমকে প্রথমেই সব বস্তুর নাম শিখিয়েছেন। শুধু বাবা বললে কি চেনা যায়।

মতিন উদ্দিন জানেন তার এই বদ খায়েশের মূল্য কতো। হয় রক্ত বমিতে মারা যাবেন নয়তো মাথায় বাজ পড়বে।তারপরও কিন্তু বুঝতে পারেন না কেন এই খেয়াল জম্মালো। তিনি সুতো বোঝায় দাড়িয়ে থাকা গাছটির দিকে তাকান। তার ইচ্ছে করে একদিন এই গাছটা কেটে ফেলবেন। তার মনে হয় মানুষের এতো এতো লোভের বোঝা অবলা গাছটি বইবে কেন। তারও কি ইচ্ছে জাগে না- গাছে একটা সুতা জড়াতে। মতিন উদ্দিন চমকে উঠেন। তিনি এইসব উল্টা পাল্টা ভাবনার কোন অর্থ বুঝেন না। স্বগতোক্তি যেন, নিজের মনেই বলে উঠেন- আমার ভেতর কে কথা কয়।

মতিনউদ্দিন জানেন না পাখিটি চমকে উঠেছে। নাম ধরে ডাকার এই বদখায়েশটা আরো একজনের জেগেছিল। আরো অনেক দিন আগে, যেন কত শতাব্দী আগে। মতিন উদ্দিন স্মৃতির দরিয়া থেকে সেই দিনটির কথা তুলে আনেন। বদখায়েশের কথা বন্ধু মফিজ সওদাগর তাকে জানিয়ে ছিলো। মফিজ সওদাগর এই মাজার কমিটির প্রধান ছিলেন। তখন মাজার অনেক জমজমাট ছিলো। মাজারের ওরস, দান-খয়রাত সবকিছু দেখার ছিল দায়িত্ব তার। মফিজের এই নাজায়েজ ইচ্ছের কথা শুনে মতিন উদ্দিন হুংকার দিয়ে ওঠেন। পরে মনে হয়েছিলো রেগে গেলে তাকে খুব কুৎসিত লাগে। ভেতরের সব কালিমা যেন বের হয়ে আসে। তার অন্তরের এই খাস মানুষটা মরার আগে তার সেই মুখ দেখে গেলো। কি এমন ভক্তি যা ভেতরের বদগুণ মারতে পারে না!

তোমার তো সাহস কম না- বাবার নাম মুখে নিতে চাও! এই যে কথাটা বলছ তোমার ওজু আছে!- মতিন উদ্দিন কথার খেই হারিয়ে ফেলেন।
মফিজ কথা বাড়ান নাই। বুঝতে পারেন মতিনউদ্দিন খুবই উত্তেজিত হয়ে গেছে। তার ফর্সা মুখটা লাল হয়ে উঠেছে। তার উপর সে ভয়ানক রেগে গেলে তুই থেকে তুমিতে চলে আসেন। মফিজ হতাশ চোখে বন্ধুর দিকে তাকান। তিনি কি যেন বলতে চান। মতিন উদ্দিন সেটা বলার সুযোগ দেয় না। বলতে থাকে-
জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাবি, ছাই হয়ে যাবি….।

তেরবছর হয়ে গেল উনচল্লিশ বছর বয়েসী মফিজ মাথায় বাজ পড়ে মারা গেছেন। আশ্বিন মাসের সেই দিনে ঝড় বাদলার কোন নাম নিশানা নাই। এই যেন শুকনার মধ্যে আচাড় খাওয়া। মতিন উদ্দিন বারান্দায় বসে মুড়ি আর চা খাচ্ছিলেন। উত্তরপাড়ার রহিম ব্যাপারী খবর দিলো মফিজ মারা গেছে। মুড়ির বাটি মাটিতে গড়াতে থাকে।

মতিন উদ্দিন দেখেন অতিচেনা ভঙ্গিতে মফিজ নিজ বাড়ির সামনের তালগাছটার সাথে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে আছে। শুধু মফিজ সওদাগরের সারা গা পুড়ে গেছে। গাছ কেন একটা ঘাসেরও কিছু হয় নাই। নিখিল বিলের ওপাশে উপরে নিখিল আকাশ। যেন বিশাল শূন্যতা মধ্যে লাশটি ঝুলে আছে। এই লাশ ছাড়া দুনিয়াতে কোন কিছুর অস্তিত্ব নাই। সেই দৃশ্য তিনি ভুলতে পারেন না। মফিজ যেন তখনো তার কানে ফিসফিস করে কিছু বলছিলো। কিন্তু তিনি কিছুই বুঝতে পারেন না। তিনি ভাবেন মৃত মানুষ কথা বলতে পারে না। মতিন উদ্দিন টলতে থাকেন। কেউ একজন তাকে ধরে বসিয়ে দেয়। মতিন উদ্দিন হাত-পা ছড়িয়ে মাটিতে বসে পড়েন। যুবকরা লাশটা ধরাধরি করে শুইয়ে দেয়- তারপর সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে দেয়।
মতিন উদ্দিন হঠাৎ মনে হলো- পোড়া মুখটা নয়- অন্য কি যেন দেখে তার মাথা টলে উঠছিল। তিনি পশুর মতো হামাগুড়ি দিয়ে লাশের কাছে আসেন। কাপড়টা উঠিয়ে মৃতের লাশটার মুখের দিকে তাকান। সেই আধপেড়া মুখটায় তিনি কোন যন্ত্রনা বা অনুতাপের নিশানা দেখেন না। একি! কি এক হাসি ছড়িয়ে আছে তার মুখে। সে মুখে কিসের হাসি ছিলো তা কখনো তিনি বুঝতে পারেন নাই। কিন্তু ইদানিং নির্জন কবরগাত্রে দাড়ালে তার মফিজের কথা মনে পড়ে। মনে পড়ে সেই মুখ। নরম-সরম আদর মাখানো মুখ। আরো মনে পড়ে….মফিজ সওদাগরের মায়ের কান্না- যা আল্লাহ, আমার কলিজার টুকরারে তোরে দিয়া দিলাম। শান্তি শান্তি…কোরবানী কবুল হইছে। বুড়ি এই বিলাপ করতে করতে বছর দুয়েক বেচে ছিলো। বুড়ি বেচে গেছে কিন্তু মতিন উদ্দিন অনেক বছর শান্তিতে ঘুমাতে পারেন নাই। তার শুধু মনে পড়তে থাকে মফিজ তাকে কিছু বলতে চেয়েছিলো। কি বলতে চেয়েছিলো? কি?

দুই.
খেজুর ডালের ভক্তি মাখা আঘাতে সিমেন্টে বাধানো কবরের গায়ে অস্থির বাতাসের সুক্ষ বুদবুদ উঠে। সেই বুদবুদে নাচতে থাকে ধুলি কণা। কাতির্কের নোংরা আকাশেও মেঘের সেই বুদবুদের ছায়া পড়ে। মতিন উদ্দিন সেই মেঘের দিকে তাকিয়ে তিনি মজা পান। আগে মনে হতো তার কবজা না হওয়া খায়েসগুলো মেঘের বুদবুদের মতো। কখনো পদ্য করে ভাবতেন ভোরের শিশিরের মতো।এই আছে এই নাই। কোন কিছুতেই নিজেকে স্থির রাখতে পারতেন না। কিন্তু এখন যেন তার আর বাবার খায়েস যেন এক হয়ে গেছে।

কিন্তু এই একটা ইচ্ছে কয়েকদিন ধরে খামচি দিচ্ছে কলিজায়। একটা নামের আশায় তার হৃদয়ে শোক জেগে উঠেছে। সেই শোক মিটলেই যেন তার মুক্তি ঘটবে। হয়তো তিনি জ্বলে পুড়ে ছাই হবেন। ‘বাবা আমারে পার করে দাও’। তার ভেতরের কথায় বাইরের পাখিটির ধ্যান ভাঙে- কুৎসিত শব্দে ডেকে উঠে। বাবার শিয়রে বসে এতো কুৎসিত ডাক কেন! মতিন উদ্দিন পাখিটির দিকে ফিরে কি যেন বলতে থাকেন। সে কথাটা অন্য মানুষের মনে পৌছায় না- এমনকি মতিন উদ্দিনকে নিয়ে কেউ যখন গল্প লেখে সেও ধরতে পারে না। অথবা তার কল্পনার বাইরে মতিন উদ্দিন পাখিটাকে কি বলেছিলো। এইটুকুও কেউ জানতে পারে নাই- পাখিটার টলটলে চোখের মধ্যে তিনি কিসের ছায়া দেখতে পেয়েছিলেন। সে ছায়া যেন তাকে কিছু একটা বলে দেয়, যা বুঝতে হৃদয়ই যথেষ্ট। আমরা ধরে নিতে পারি- এরপর মতিন উদ্দিনের মনে আর কোন আফসোস থাকে না।

মতিন উদ্দিন আর একদল মৃত মানুষ ছাড়াও আরেকটা ছোট চরিত্র আছে এই গল্পে। পাখিটার কথা ভুলে যাবেন না। সে একজন হলো মতিন উদ্দিনের কলিজার টুকরা মরিয়ম। সামনের পৌষ মাসে ছয় বছরে পা দিবে। পাকা পাকা কথা বলে বাপের পরান জুড়িয়ে দেয়। বাবার দোয়ায় মতিন উদ্দিনের শেষ বয়সে এই সন্তানের জম্ম। মতিন উদ্দিন অনেক বছর বাবার কাছে একটা সন্তান ভিক্ষা চান। এক সময় বাবার উপর তার ভীষণ রাগ হয়। কিন্তু প্রকাশ করেন না।

এক রাত্রে তিনি স্বপ্নে এক অচেনা লোককে তার শিয়রে বসে থাকতে দেখেন। তিনি হাত বাড়িয়ে মতিন উদ্দিনের মাথায় রাখেন। তিনি মতিন উদ্দিনকে শুধান তোর মনে কিসের এতো দুঃখ।
মতিন উদ্দিন রেগে বলে, বাবা তুমি তো সব জানে, আবার জিজ্ঞেস করেন কেন?
তুই তো সন্তান পেলে আমারে ভুলে যাবি, আমার দরগায় তার আসবি না।
তোমার কি এই ভক্তের প্রতি বিশ্বাস নাই, বাবা তাহলে আমার কোন সন্তান লাগবে না।
আমার কাছে তো কিছু নাই, আমার কাছে চাস কেন?
মতিন উদ্দিন অভিমান করেন। বাবা নিশব্দে হাসতে থাকেন।নিশব্দ অথচ যেন সেই হাসির শব্দে দমকা বাতাস বইতে থাকে। সে বাতাসে আতরের সুবাস। মতিন উদ্দিনের ঘুম ভেঙ্গে যায়- পুবের আকাশ অনেকটা ফর্সা হয়ে উঠেছে। তার ভয় হতে থাকে। তিনি বুঝতে পারেন স্বপ্নে কাকে দেখেছেন। তিনি অনেক বেয়াদবি করেছেন বাবার সাথে।
বাবা আমার কিছু লাগবে না- আমারে তোমার কাছে সপে দিলাম…।

পরের দিন তিনি আবার স্বপ্নে দেখেন, তোরে আমার কাছে সপে দিতে হবে না। আমার মধ্যেই তুই আছস।
কেমন আছি- আমি তো তোমারে জানি না?
জানা কি আর মুখের কথায় হয়- তোমার ভেতর তোর স্থান হইছে, তোর আর দরকার?
মরিয়ম দেখে তার বাবা কার সাথে যেন কথা বলছে। সে চুপিচুপি বাবার পেছনে গিয়ে দাড়ায়।
-পাখিটা এইভাবে হাসল ক্যান।
কোন পাখিটা?
মতিন উদ্দিন চমকে গিয়ে মেয়ের দিকে ফিরেন। মরিয়ম খিল খিল করে হাসতে থাকে।

একা একা কার লগে কথা বলেন।
তুই বুঝবি না।
মরিয়ম হাসতেই থাকে। এই মেয়ের এই অভ্যাস হাসা শুরু করলে আর থামে না।
-বাবার দরগায় কেউ এমন করে হাসে না মা। মেয়ের প্রতি মায়া যেন কথা ছুইয়ে পড়ছে। মতিন উদ্দিন সব কিছু ভুলে যান- মেয়ের হাসি মাখা মুখ দেখে। তার মনটা একটু খারাপ হয়ে যায়- তার কড়া কথায় মেয়ের হাসি বন্ধ হয়ে গেছে। সোনার পুতিলা কি রাগ করল? মতিন উদ্দিন আকাশের দিকে তাকান। মাগরিবের আজান দিতে দেরী নাই।
বাবা, মা চা বানাইছে চলো।
তিনি মেয়ের হাত ধরে বাড়ির দিকে রওয়ানা দেন। তিনি বাবার কবরকে সামনে রেখে পিছিয়ে আসেন। গেট পার হয়ে সামনে দিকে ফিরে হাটতে থাকেন। মরিয়মের পায়ে ধুলোর ছাপ পড়তে থাকে, মরিয়মের বয়স বেড়ে যাচ্ছে। মতিন উদ্দিনের পায়ের ধুলো বাতাসে ঘূর্ণি তোলে। যেমন করে খেজুর ডালের আঘাতে বাবার কবরের ধূলো উড়ে। সে কবরের গায়েও কালের চিহৃ পড়েছে। কিন্তু মতিন উদ্দিনের বয়স বাড়ে না।

মতিন উদ্দিন খেয়াল করেন নাই- মরিয়ম যখন তার সাথে কথা বলছিল পাখিটা সেখানে ছিলো না। শুধু তাই নয়- আর পাখিটাকে কখনো দেখা যায় নাই। না, আরো দশ বছর পর সেই পাখিটাকে দেখা গিয়েছিলো বাবার শিয়রের কাছের চিরবালক সেই গাছটাতে। তখন বাবার মাজারের খেদমতে ছিলেন আকমল হোসেন।

মরিয়ম থেকে একটা কথা শুনেছি, যিনি অনেক কাল পর তাপসী মরিয়ম নামে পরিচিত হন। তার ভক্তও জুটে অনেক। যখন মতিন উদ্দিনের মাথায় বাজ পড়ে সে নাকি কি একটা ছায়া দেখেছিলো- যেন কিছু একটা পাখির মতো- ঠিক পাখির মতো না, তুলোর মতো পলকা কিছু একটা যেন তার বাবার শরীর থেকে উড়ে কোথায় চলে গেছে।

মরিয়ম তার বাবার পুড়ে যাওয়া মুখ দেখে ভয় পান নাই। তিনি বলেন-আচানক কি যেন হলো। বাবা এই রকম কখনো করেন নাই। এক মুহূর্তের জন্য আমার হাতটা ছাড়ছেন। সাথে সাথে কি বিকট শব্দ। যেন মাথার উপর দুনিয়া ভেঙ্গে পড়ছে। তারপর দেখি বাবার উপর বাজ পড়ছে…।
কিন্তু মৃত্যুকালে মতিন উদ্দিনের চেহারা কেমন হয়েছিলো তিনি বলতে পারেন না। ও আচ্ছা, মতিন উদ্দিন মৃত্যুর আগে একটা কথা বলে যান – বুঝতে পারছি মফিজ বলতে চেয়েছিলো।

> অলংকরণ: Pat Fiorello এর Up in the sky শিরোনামের তৈলচিত্র অবলম্বনে।

> যুগান্তর সাময়িকী-তে প্রকাশিত।

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *