আমাদের কালের নীটশে

ফ্রেডরিশ ভিলহেল্ম নীটশে জম্মগ্রহন করেন ১৮৪৪ সালের অক্টোবরের ১৫ তারিখে । এগারো বছর অসুস্থ্য থাকার পর ১৯০০ সালের আগষ্টের ২৫ তারিখে মারা যান। অনেক অবদানের মধ্যে তিনি আধুনিকতার নৈতিকতা সম্পর্কিত সমস্যাকে তাৎপর্যপূর্ণভাবে সাফ করে হাজির করেছেন। যাকে বলা হয়, the problem of values. আমরা বলব না তিনি এই সমস্যার সমাধানে সফল। কিন্তু এটা আমাদের নিত্যজীবনের সমস্যাকে গভীরভাবে উদম করে।

তার সবচেয়ে আলোচিত বা কুখ্যাত ঘোষণা হলো ‘ঈশ্বর মারা গেছেন’ (Gott ist tot/God is dead). হাইডেগারের অর্থে অধিবিদ্যার যুগ শেষ। ১৮৭২ সালে প্রকাশিত দি গে সায়েন্স-এ তিনি এই ঘোষণা দেন। আমাদের সেক্যুলার সময় ঈশ্বর না থাকা ইতিমধ্যে নিত্যদিনের বিষয় হয়ে উঠেছে। কিন্তু নীটশের কালে এই ঘোষণা বিস্ময়কর ও পয়গম্বরসুলভ। আবার এ দাবি তিনি নাস্তিকতাবাদ থেকে দেন নাই; যদিও তিনি নিশ্চিতভাবেই নাস্তিক ছিলেন। এভাবেও বলা যেতে পারে তিনি ইউরোপীয়ান নাস্তিকতাবাদের অন্যতম পথ প্রর্দশক। কিন্তু এর বদলে তার পর্যবেক্ষণ ছিলো সমাজতাত্ত্বিক। সেদিক থেকে তিনি বলছেন পশ্চিমা সংস্কৃতিতে নির্দিষ্ট সময় পরে বস্তুসমূহের কেন্দ্রবিন্দুতে ঈশ্বরের কোন স্থান নাই। অন্যভাবে বললে, ‘সমাজতাত্ত্বিক’ পদটি কিছুটা ভ্রান্তিকর। কারণ নিটশের জবানে ‘ভ্যালু-নিউট্রাল’ বলে কিছু নাই। দুই বছর খৃষ্টীয় ঈশ্বরের চাদরে থাকার পর আধুনিকতার মাধ্যমে ধর্মের নিরকরণ ঘটেছে। পশ্চিমের ভ্যালু-নিউট্রাল ধারণার মধ্যেই ঈশ্বরের মৃত্যু টোকা লুকিয়ে ছিলো এবং এটি উম্মোচন করে অতল গহ্বর। যে ভ্যালুগুলো একসময় মানুষের বেঁচে থাকার মধ্য দিয়ে অর্থময় ছিলো, সেগুলো অর্থ হারিয়ে ফেলেছে। পশ্চিমা এখন নৈতিকতার অর্থ থেকে নিক্ষেপিত হয়ে অতল গহ্বরে ভাসছে। অনুধাবণ করি বা না-ই করি, তাই হচ্ছে। প্রশ্ন হলো, আমরা এখন কি করব।

Portrait of Nietzsche © Athamos Stradis 2012

Portrait of Nietzsche © Athamos Stradis 2012

নীটশে প্রচলিত সকল ধরণের নৈতিকতাকে বাতিল করেছেন কিন্তু নিহিলিষ্ট ছিলেন না- তিনি সকল ধরণের মূল্যের পরিচ্ছন্ন পুনমূল্যায়ন করেছেন। পশ্চিমা সভ্যতার বিচারমূলক বিশ্লেষণ করেছেন।  ফলাফলে তিনি ‘দাস্য নৈতিকতা’র (গণের) এবং ‘প্রভু নৈতিকতা’য় (যারা বুদ্ধিবৃত্তিক সৃজনশীলতার মধ্য দিয়ে সমাজের উন্নীত সাধন করেন) মধ্যে পার্থক্য দেখিয়েছেন । এখানে উল্লেখ করা যায়, গ্রীক সভ্যতার প্রতি তার দরদ সবিশেষ। সবশেষে তিনি এসেছেন ‘ফিলোসফি অব ওভারকামিং’-এ। যা জীবনের আত্ম-নির্মাণ ও স্বীকৃতিকে ব্যাখ্যা করে।ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে কল্পনা করেছেন  এক ‘মহৎ মানুষ’ যিনি নিজের আপন ইচ্ছেয় নিজেকে ব্যাখ্যা করেন এবং মিথ্যা  ও বাতিল হয়ে আসা গণের সাধারণ মূল্যকে বাদ দিয়ে নিজের মূল্য তৈরী করেন।

সে আলোচনার আগে আলোকনপর্বের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র ইমানুয়েল কান্ট ধরে কিছু কথা বলা যাক। দার্শনিক ইমানুয়েল কান্টের (১৭২৪-১৮০৪) সাথে নীটশের গুরুতর পার্থক্য রয়েছে। কান্টের ‘শর্তহীন আদেশ (categorical imperative)’র ধারণার উপর নৈতিকতার নিশ্চিত ভিত্তি স্থাপন করেছেন। সেই মতে, এমন কাজ করতে হবে যা সার্বিক আকারে পরিগণিত হয়। তার মতে নৈতিক বিচার বিশেষ পরিস্থিতি, আবেগ এবং উদ্দেশ্যের উর্ধ্বে। এটা নৈতিক নিশ্চয়তা দিতে পারে। তার এই নৈতিক কাঠামোর মধ্যে মৌলিক কিছু বিশ্বাস স্বীকার্য হিসেবে আছে। যেমন- ইচ্ছার স্বাধীনতা, আত্মার অমরতা এবং ঈশ্বর বিচারকর্তা। এই ধরণের ধর্মীয় শর্ত নীটশের মতের সাথে যায় না।

অপরাপর উদ্দেশ্য থেকে নৈতিক উদ্দেশ্যকে আলাদা করে কান্ট কর্তব্য এবং আকাঙ্খার মধ্যে গুরুতর পার্থক্য করেছেন। আপনি যখন একটা কাজ করবেন তা কর্তব্য আকারে করবেন। এটা সকল ধরণের আকাঙ্খা থেকে আলাদা। কিন্তু এটা পরিষ্কার নয় মানুষ কেন সবসময় একটা নৈতিক উদ্দেশ্য অনুসরণ করবে? এটা করে অন্য কারো বা সমগ্রের জন্য নিজের স্বার্থকে কুরবানী করে দিচ্ছে। হতে পারে একটা সার্বিক পদ্ধতি তৈরি করার জন্য উদ্দেশ্য বিষয়ে কান্ট এই সিদ্ধান্তে এসেছেন। কিন্তু এগুলো ভাবগতভাবে খৃষ্টীয়। এই নৈতিক মতকে ইংরেজিতে বলা হয় Morality in the Pejorative Sense. এর বর্ণনামূলক এবং আদর্শনিষ্ট রূপ আছে। নীটশে দুটোরই সমালোচনা করেছেন। খৃষ্টীয় ও কান্টীয় নৈতিকতার ধারণার সাথে তিনি উপযোবাদেরও ক্রিটিক করেন।

প্রচলিত নৈতিক মতবাদ গ্রহনযোগ্য নয় মানে সব গেল এমন নয়। নীটশে ছিলেন নৈতিক নিহিলিজম বিপক্ষে। নৈতিকতার মধ্যে অনুসন্ধান করলে, কমনসেন্স বিশেষ করে বৈজ্ঞানিক যুক্তিপদ্ধতি অপরিহার্য। এটা সহজে বুঝা যায় সবকিছুকে সন্দেহ করা সম্ভব নয়, কারণ এর ফলাফল মানুষের আচরণ এবং মনোস্তাত্ত্বিক অনিশ্চয়তাকে বেধে ফেলে। তবে অনেক সংশয়বাদ অধিবিদ্যিক নির্মাণগুলোকে প্রশ্ন করে কারণ সন্দেহ ‘বাস্তবতা কি’ এমন প্রশ্নের চেয়ে মানুষের ইচ্ছের প্রতি জোর দেয়।

একালে ‘ঈশ্বরের মৃত্যু’ পরিচিত ইস্যু। কিন্তু রক্ষণশীল খৃষ্টান তর্ক তুলতে পারেন- যদি ঈশ্বর না থাকে তবে নৈব্যক্তিক নৈতিক মূল্যও থাকবে না। সেক্যুলার মানবতাবাদী ক্ষুদ্ধ হয়ে জবাব দিবেন আমরা যে ধরণের নৈতিক অবধারণ তৈরি করি তার বৈধতার জন্য ঈশ্বর সম্পূর্ণভাবেই অপ্রাসঙ্গিক। নীটশে ঐসব আস্তিকদের সাথে একমত ঈশ্বরের মৃত মানে নৈতিক মূল্যের পরিচিততে নৈব্যক্তিকতার সমাপ্তি।কিন্তু মতপার্থক্য হলো তিনি একে ঈশ্বর বিশ্বাসের কারণ হিসেবে নেন না। এমনকি স্থুল জনপ্রিয় অর্থে মূল্যগুলোকে আত্মগত ভাবতেন না। এরচেয়ে নীটশের কাছেগুরুত্বপূর্ণ হলোমূল্যের ক্ষমতা আছে। মূল্য ক্ষমতা থেকে ছড়ায়। যেমন- শিল্পের কাজ। Art as the single superior counterforce against all will to negation of life, art as the anti-Christian, anti-Buddhist, anti-Nihilist par excellence. (The role of art in Nietzsche’s philosophy)

কিন্তু মিডিয়া নির্মিত লোকপ্রিয় সেন্টিমেন্ট মূল্য তৈরির ক্ষমতার নির্দেশক নয়। নীটশের কাছে সকলেরই এই দলের সদস্য। লোকপ্রিয় অভিরুচির সাথে সর্ম্পকিত যেকোন মূল্য  (এমন কি অভিজাত অভিরুচিতে) নৈব্যক্তিকতা ধরে রাখার চেষ্টা থাকে। কিন্তু নৈতিক নৈব্যক্তিকতা সমাপ্তিতে পৌছলে মূল্যের একদম নয়া এবং আমূল পরিবর্তকামী ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদী উৎস দৃশ্যমান হয়ে উঠবে। মূল্যের ক্ষমতা সম্পর্কিয় নীটশের ধারণা গভীরভাবেই এলিটিস্ট: শুধুমাত্র মহৎ কেউই মূল্য তৈরি করতে পারে। নীটশে যুক্তি দেন প্রাচীন কালে, মূল্য তারই সত্ত্বাধীন ছিলো যিনি তা সৃষ্টি করতেন:

‘A tablet of the good hangs over every people. Behold, it is the tablet of their overcomings; behold, it is the voice of their will to power… ‘You shall always be the first and excel all others: your jealous soul shall love no one, unless it be the friend’ – that made the soul of the Greek quiver: thus he walked the path of his greatness… ‘To practice loyalty and, for the sake of loyalty, to risk honor and blood even for evil and dangerous things’ – with this teaching another people conquered themselves, and through this self-conquest they became pregnant and heavy with great hopes…’ (Thus Spake Zarathustra, I, 1883)

সেই কালে এটাই ছিলো ক্ষমতা যার মধ্য দিয়ে লোকজন তাদের মূল্য নির্মাণকে  সংজ্ঞায়িত করত। এবার দেখা যাক খ্রিষ্ট ধর্ম কি বলে। ‘The meek shall inherit the earth.’ (Matthew 5:5) বস্তুত, খ্রিষ্টান ধর্মীয় শ্রেনীগুলো নিজেদের ইচ্ছেকেই ক্ষমতার চর্চায় কাজে লাগাত। এটা প্যাগানদের উপর বিজয়সূচক। কিন্তু এই পক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নানাকিছু হীনতর বলে বিবেচিত হয়। শরীরের জন্য লজ্জা, পাপের শাস্তি: ঈশ্বরের বাণী থেকে একটা নৈতিক প্রতিধ্বনি পাওয়া যায়। ফলাফল হলো ক্রুশে শাস্তি ভোগ করা। ইয়েল ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি করা Eric Walther (যার লেখার সুত্র ধরে লেখাটি তৈরি)বলছেন, The explicit message is that value is not embodied in earthly holy men, but beyond, yet the truth is the opposite: the priests’ power has been realized in their victory over competing allegiances. But this victory has been won through Christianity’s plague of self-denial – what Nietzsche calls a “nay-saying” to life.

ঈশ্বরের মৃত্যু, খৃষ্টান ঘরাণার নিবীর্য মূল্য তৈরিকে রুদ্ধ করে দেয়। আধুনিক মানুষের মধ্যে একক কোন বিশ্বাস নাই কথিত নৈব্যক্তিক মূল্যের স্থান দখল করতে পারে। বলা হয়ে থাকে, এখনকার মূল্য অসংলগ্ন পাঁচমিশালী জিনিসের গিট এবং শতাধিক উৎস থেকে জাত। নীটশে একে ‘নানরঙা গরু’ নামে ডাকেন। আজকের পশ্চিম হলো নানা ধরণের বিশ্বাসের ফেরীওয়ালা।

এটাই নীটশের ভাবিষ্যদ্বাণী যে, মূল্য হলো মিক্স এণ্ড ম্যাচ ভোগ্য পণ্য।এটা অসার এবং নানা দুর্বলতায় ভরা। কিন্তু কিভাবে এবং কোন সময় মানুষের ক্ষমতার ইচ্ছা নতুন ধরণের মূল্য তৈরি করবে? এটাই নীটশের ধাঁধা এবং তিনি অনুমান করেছেন আধুনিক মানবিকতার মধ্যে এর উদয় হবে। তাহলে নিহিলিজমের বিরুদ্ধে এবং ব্যবহারিক সংশয়বাদের অনুশীলনের কি সারমর্ম দাড়াচ্ছে?

নীটশে এই সমস্যায় নায়কোচিত সমাধান নিয়ে এলেন। সেই সমাধানের নাম উবেরমেন্স, আক্ষরিক অনুবাদ হলো ওভারম্যান। যাকে বেদনাদায়কভাবে প্রায়শ বলা হয় সুপারম্যান। সাধারণ মানুষ মূল্যের সৃষ্টিকারী নয়; এরজন্য স্বতন্ত্র্য (Individual) হিসেবে সে অপর্যাপ্ত। তার কাজ হতে পারে সে উচ্চতর কিছুর সাথে সম্পর্ক তৈরীকারী হিসেবে। যেমন- ‘The ape is an embarrassment to man; just so will man be an embarrassment to the overman.’

ওভারম্যান হলো উচ্চতর স্বতন্ত্র। নিজের ক্ষমতা সম্পর্কে আত্নবিশ্বাসী। নিজের প্রতি রয়েছে শক্তিশালী স্বীকৃতি। তাই সে মূল্য তৈরী করে। এ মূল্য সাধারণ জনগণের তৈরি না অথবা কোন অচিন কর্তা দ্বারা আচ্ছাদিত নয়।এই মূল্য অবশ্যই নির্মিত এবং  আগে থেকে অস্তিত্বশীল কিছুর নবায়ন নয়।

ওভারম্যান কেমন হবে তা বিস্তারিত জানেন বলে তিনি দাবি তোলেন নাই। তিনি চিন্তা করেছেন ওভারম্যানের অনুসারী বা মেটাফরিক্যাল ভাই থাকবে। কিন্তু ওভারম্যান নিজে কারো মত নয়, সবার চেয়ে আলাদা।এই বিষয়টি চুরি করেছিলো নাজীরা। সে প্রসঙ্গ থাক।

কিন্তু আধুনিক মানুষ হিসেবে আমরা একটা অহমবাদী অবস্থানে থাকি। তার সুত্রও প্রাচীন খানিকটা। যেমন- প্রোটাগোরাসের মতো কেউ কেউ বলেছেন মানুষ সব কিছুর মাপকাঠি। নীটশের হিসেবে  ব্যক্তি স্বাধীনতা, মতামত, মানবতাবাদ সেখানে এমন ধারণাকে হাস্যকর মনে হতে পারে। কিন্তু এ আধুনিককালে ব্যক্তি মানুষ কি আসলেই তার নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই গ্রহন করে? অথবা ঈশ্বরের জায়গায় বসে সেকি ইচ্ছেকে কাজে পরিণত করার ক্ষমতা লাভ করেছে। এই স্বাধীনতা এক ধরণের  অবাস্তব কল্পনা মাত্র।

আধুনিক আর ব্যক্তি স্বাধীনতার বিরুদ্ধে নীটশের অভিযোগ আছে। আধুনিকতার পর্দা ভেদ না হলে মূল্য পয়দাকারী নীটশিয়ান ওভারম্যানের ধারণা সে মানবে না। তাছাড়া, মানব সত্তার সাথেই কিছু মূল্য থাকে যার বৈধতা মানুষের নিজস্ব প্রসঙ্গের বাইরেও বিস্তৃত। যা বুদ্ধিবাদী হিসেবে সাধারণভাবেই প্রয়োগ করে।এই ক্ষেত্রে একজন নিজেকে কান্টশিয়ান বলে দাবি করতে পারে। ঠিক যে, আধুনিক মাল্টি কালচারাল সংবেদনশীল স্বতন্ত্র্য স্বতন্ত্র্য আকারে মূল্য তৈরি করতে পারে না। কিন্তু স্বতন্ত্র্যের (আইনপ্রণীত) মূল্য এক ধরণের বোধ ধরে রাখতে পারে যেখানে অন্যান্য বুদ্ধিবৃত্তিক স্বতন্ত্র্য থেকে ওভারম্যান বোধের পরম পৃথকত্ব টিকে থাকে না।

কিন্তৃ কেন আধুনিক মানুষ এখনো যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে? আমি জানি না। না জানার থেকে জানতে চাওয়ার মধ্যেই উত্তরণ আছে। কেন না, আধুনিক মানুষ যখন তার যন্ত্রণার স্বরূপ বুঝতে পারবে- তখন সে নিজের দিকে নিজে ফিরে তাকাবে। নীটশের ওভারম্যানের ধারণার দার্শনিক অভিমুখ হলো মানুষ নিজেই পরম হয়ে উঠে। আলোকনের মধ্যে এই দাবি থাকলেও সে নানা কায়দা মানুষকে বেঁধে দেয়। ফলে নীটশের অর্থে ওভারম্যান হয়ে উঠা মানে আধুনিকতার শূন্যগর্ভকে অতিক্রম করে যাওয়া। সে অতিক্রম আমরা দেখি নাই। কিন্তু চিন্তার দিক থেকে নৈতিক মূল্যমান থাকা আর না থাকার সমস্যা তিনি ধরতে পেরেছেন এটাই গুরুত্বপূর্ণ। সে অর্থে তিনি অতিক্রম করে গেছেন। কিন্তু তার সমাধানে ক্ষমতার স্বেচ্ছাচারীতা আমাদের অবশ্য অস্বস্থিতে ফেলে।

> বিভিন্ন লেখার সুত্র ধরে লেখাটি তৈরি করা হয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে মূল লেখার তর্জমা। এছাড়া নীটশেকে বুঝা হয়ে গেছে এ দাবি করে পরকালে আগুনের ভোগ হতে চাই না। ভবিষ্যতে হয়তো কিছুটা বুঝতে পারব। সে আশাবাদ জারি রাখলাম।

ফেসবুক কমেন্ট

Faysal Ovi শেষ দু’লাইনের দ্বন্ধ কিংবা সংশয় বেশ গুরুত্ব/ এটা অতিক্রমের প্রশ্ন তৈরি করে সক্রিয় চিন্তার আয়ুকে দীর্ঘ করে/ শুভেচ্ছাThursday at 11:10pm · Unlike · 1

Riaz Uddin “ফলাফলে তিনি ‘দাস্য নৈতিকতা’র (গণের) এবং ‘প্রভু নৈতিকতা’য় (যারা বুদ্ধিবৃত্তিক সৃজনশীলতার মধ্য দিয়ে সমাজের উন্নীত সাধন করেন) মধ্যে পার্থক্য দেখিয়েছেন । এখানে উল্লেখ করা যায়, গ্রীক সভ্যতার প্রতি তার দরদ সবিশেষ। সবশেষে তিনি এসেছেন ‘ফিলোসফি অব ওভারকামিং’-এ। যা জীবনের আত্ম-নির্মাণ ও স্বীকৃতিকে ব্যাখ্যা করে।ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে কল্পনা করেছেন এক ‘মহৎ মানুষ’ যিনি নিজের আপন ইচ্ছেয় নিজেকে ব্যাখ্যা করেন এবং মিথ্যা ও বাতিল হয়ে আসা গণের সাধারণ মূল্যকে বাদ দিয়ে নিজের মূল্য তৈরী করেন।” — এই অংশটি সম্পর্কে একটু বিশদ জানার উপায় কি? Wahed Sujan  Thursday at 11:13pm · Unlike · 2

Wahed Sujan Riaz Uddin, এটা এক অর্থে পুরো লেখার সারমর্ম হতে পারত। কিন্তু সেকেণ্ডারী সোর্স ইউজ করায় নিশ্চিত করে বলতে পারছি না।। তবে বইয়ের রেফারেন্স আপনাকে দিবো। প্লিজ ওয়েট।

Riaz Uddin অপেক্ষা করছি সমস্যা নাই — দাস নৈতিকতা, প্রভু নৈতিকতা ডাইকটমিটা বোঝার চেষ্টা করছি। কোনোটেশানটা কি ধরনের সেটা একটা প্রশ্ন। গ্রীক সভ্যতার প্রতি নিটশার দুর্বলতা সম্ভবত প্রভু নৈতিকতার প্রতি তার বায়াসের জন্যেই। সেই ক্ষেত্রে কিছু কোনোটেশনাল কনফিউশান বোধ করছি। তবে বিষয়টিতে স্বতন্ত্রভাবেই আগ্রহ বোধ করছি। ধন্যবাদ, Thursday at 11:26pm · Unlike · 2

Comments

comments

5 thoughts on “আমাদের কালের নীটশে

  1. একটা অজানা জেনে গেলাম। মায়া সভ্যতাইয় গতকাল পৃথিবী ধ্বংস হবার কথা ছিল। হা হা হা… কাজে কাজেই… ঈশ্বর এখনো মারা যায় নাই!

  2. Pingback: প্রভু এবং দাস্ নৈতিকতা | ইচ্ছেশূন্য মানুষ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *