তৃতীয় বিশ্বে কথাহীন এক ঘন্টা

মুকনাটকটির প্রথম প্রদর্শনী হয়েছিলো ২০১১ সালের ২৮ মে। ইতিমধ্যে নাটকটির ছয়টি প্রদর্শনী সম্পন্ন হয়েছে। এই লেখাটি প্রথম প্রদর্শনীর পর লেখা। সে সময় রাজনৈতিক.কম-এ প্রকাশিত হয়েছিলো।

চারদিকে কথা আর কথা। কেউ বলছে কেউ শুনছে;কেউ শুনছে কেউ বলছে।কেউ দলবল নিয়ে বলছে;কেউ দলবদল করে বলছে।এই বলাবলি আর শুনাশুনিতে কে কি বলছে তা স্পষ্ট নয়, তবুও আমরা বলে যাচ্ছি।আমাদের কাজ বলতে থাকা আর শুনতে থাকা।প্রতিদিন প্রতিক্ষণ এই করি,বিরক্ত হই আবার করি।এরমধ্যেই আমাদের বসবাস। কেউ তর্ক তুলতে পারেন এরমধ্যে শুদ্ধ কাজ কি? মশায়,শুদ্ধতার বাতিকগ্রস্থ হলে দুনিয়া চলে না।কিন্তু বাতিক যেহেতু আছে, সে বাতিকের সবটা নিশ্চয় বাতিক নয়। থাক, তর্ক-বিতর্কের ঝড় না তুলে একটা ঘন্টা যদি এই বলাবলি-শুনাশুনি থেকে বিরত থাকা যায়,কেমন হয় বলুন তো?

খানিকক্ষণ জ্বালাময়ী বক্তৃতা শোনা হয়ে গেল। চট্টগ্রাম শহরের মুসলিম ইনস্টিটিউটের সামনের শহীদ মিনার, উদীচির অনুষ্ঠান চলছিল। আমরা আর মানুষ হলাম না!আমরা আর সেক্যুলার হলাম না! বাঙ্গালী হয়ে উঠলাম না! চারিদিকে যুদ্ধাপরাধী,জঙ্গী,মাদ্রাসা গিজগিজ করছে,তার উপরে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। এইগুলো রাষ্ট্রের প্রধান সমস্যা। এগুলো নিয়ে চিল্লা-ফাল্লা চলছে, চলবে। ভাবতেছিলাম এর বাইরে দেশে আর কি কি সমস্যা আছে।যেগুলোকে রাষ্ট্রের সুনাগরিকদের বড় একটা অংশ আমলে নেন না।এর মধ্যে একজন আবৃত্তি শুরু করলেন।পাশে থেকে একজন হেসে উঠলে চোখ পাকিয়ে তাকালাম। তিনি বললেন, এটা কোন যুগের ভাষা। এইসবের সাথে আরো আকাশ কুসুম কিছু ভাবতে ভাবতে মুসলিম ইনস্টিটিউটের পাশের ষ্টুডিও থিয়েটারের সামনে এসে দাড়ালাম।

উপলক্ষ্য অনাদিকল্পের নতুন প্রযোজনা মূকনাটক ‘তৃতীয় বিশ্ব’। মঞ্চায়িত হচ্ছে বিভাগীয় মূকাভিনয় উৎসব ২০১১¬-এ। ২৬, ২৭. ২৮ মে এই তিনদিনব্যাপী উৎসবের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ মূকাভিনয় ফেডারেশন। উৎসবের শ্লোগান ‘মৌনতায় জাগুক নীরবতার কথকতা’। অনাদিকল্প ছাড়াও অংশ নিয়েছে আরো দুটি দল-প্যান্টোমাইম ও মাইমো টেলস। এই উৎসব তিন বছর ধরে নিয়মিত হয়ে আসছে। প্রতিদিন একটি দলের একই নাটকের দুটো প্রদর্শনী। আজ শেষ দিনে অনাদিকল্পের প্রদর্শনী। আসুন, চেষ্টা করি ‘তৃতীয় বিশ্ব’ এই নাম দিয়ে আগাম কিছু অনুমান করা যায় কিনা। নামটা রাজনৈতিক এবং চরিত্রগুলো বাংলাদেশেরই। আবার তৃতীয় বিশ্ব বলতে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বলয়যুক্ত দেশকেও বুঝায়। এর সাথে ‘শোষণ’ আর ‘বঞ্চনা’ জাতীয় শব্দ বেশি বেশি চলে আসে। মনে প্রশ্ন জাগে, ‘তৃতীয় বিশ্ব’ নামে আমাদের কারা ডাকে এবং কেন ডাকে? এর ভেতরকার রাজনীতিটা কি আমাদের জন্ম দাগের মতো নয়? এর সাথে নির্দিষ্ট চক্রের শাসন-শোষণ, আয়ত্বে রাখার কৌশল অন্তর্গত। অনাদিকল্প এইসব কিছু কিভাবে বিবেচনা করবে। কার কৌশল মূকনাটকের বৈশ্বিক কন্ঠস্বরে প্রাধান্য বিস্তার করবে? কৌশলের সমূহ সম্ভাবনার বেদনা থেকে এক ধরনের অস্বস্থি জাগছিল।

স্টুডিও থিয়েটারের আসন সংখ্যা শ’দেড়েক।এর সাথে পাল্লা দিয়ে যেন ছোট্ট একখানা মঞ্চ। ছোট হলের ছোট মঞ্চ দেখে খানিকটা বিরক্ত ও ভীত হলাম। পরে ‘তৃতীয় বিশ্ব’র রচয়িতা ও নির্দেশক মাসউদুর রহমানের কথা শুনে মজা পেয়ে ছিলাম। তিনি বলেন, ‘ছোট একটা রিহার্সেল রুম ভাড়া নিতে আমাদের কত কষ্ট। এই মঞ্চ তো আমাদের জন্য অনেক বড়। এই মঞ্চে উঠে ভাবছিলাম এতো বড় জায়গায় আমরা কি করব’। তার কথায় নাট্যশিল্পের সংকট ফুটে উঠে। মূকাভিনয় চলাকালে কেমন যেন ঠাসাঠাসি অবস্থা। প্রদর্শনী শুরু হবার আগে বিদ্যুত চলে গেছে।জেনারেটরের একঘেয়ে শব্দ পেছনে ঠেলে হলে ঢুকলাম।হাউস ফুল।কেউ কেউ পেছনে দাড়িয়ে গেছেন।এর আগের প্রদর্শনী হাউস ফুল ছিলো, আয়োজকদের মাঝে তৃপ্তির ঢেকুর দেখা গেল।

মনে আছে, বলেছিলাম নিরবতার একটা ঘন্টা।কিন্তু একি,অন্ধকারে উড়ে এলো বঙ্গবন্ধুর কন্ঠ।সেই দরাজ গলা,অমর কথামালা।‘এইবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম’।তারপর টা টা টা টা গুলাগুলি!মুক্তিযুদ্ধ! বাহ,তৃতীয় বিশ্বের স্বাধীনতা।জাতীয় স্মৃতিসৌধ দেখা গেল,কিন্তু একি,দুই দলের দড়ি টানাটানিতে স্মৃতিসৌধ একবার এদিক আরেকবার ওদিক যাচ্ছে।আহা,উহার নামই ক্ষমতা।ক্ষমতা দিয়া যেকোন কিছু জায়েজ হয়।তা নাহলে,এক স্বাধীনতা যুদ্ধের এত ইতিহাস কেন? পাঁচ বছর পর পর ইতিহাস বদলের নমুনা কি দুনিয়ার আর কোথাও আছে? আছে হয়ত, তবে এত তাড়াতাড়ি বদল হয় না। নিজেদের অপরের চেয়ে আলাদা ভেবে কষ্ট পাবার কারণ নাই, ইতিহাস বিজয়ীদের নির্মিত বয়ান। স্মৃতিসৌধ নিয়ে এই টানা-হেচড়া বিরল ব্যঙ্গ।এত সহজ টেকনিকে কত কথা বলা যায়।মূকনাটকের কৌশল নিয়ে কিছু ধারণা পেলাম বুঝি। সাধুবাদ। দর্শকের হাততালিতে সাড়া দিলাম।

তৃতীয় বিশ্ব’ দলটির সপ্তম প্রযোজনা। তাদের আরেকটি মূকনাটক দেখার অভিজ্ঞতা আছে। ‘প্রকৃতি ও পুরুষের গল্প’। সে কাজেও গতানুগতিক বর্ণনারীতি ছিল,এটাতেই আছে। এই ধরণের দৃশ্যগুলো মায়া তৈরি করে, দর্শকের শহুরে আবেগ নিয়ে খেলে। তেমনি কিছু দৃশ্য আছে এইবারের নাটকেও।যেমন- গ্রাম বাংলার সুখী পরিবার।মা-বাবা আর সন্তান মিলে সুখী পরিবার।অভাবের দেশে তাদের নিশ্চয় নানা অভাব অভিযোগ আছে।কিন্তু তার ভেতর একাট্টা জীবন বলে কিছু আছে,যা সংগোপনে তৃপ্তি যোগায়। ভাব, ভাষায় এবং জাগতিক ইশারায়।মোটামুটি সময় নিয়ে দৃশ্যটা করা।বিশেষ করে শিশু চরিত্রটির খুনসুটি ভালোই মজা দিচ্ছিল।এর মধ্যে বাবা মাঠে গরু নিয়ে হাল-চাষ করতে গেলেন।তার কাছে জীবনটা কত সহজ আর স্বাভাবিক। স্ত্রী ও পুত্র। আমরা এইভাবেই তো আছি।কিন্তু এরমধ্যে দর্শকরা যেন এই মানুষটার নিয়তি জেনে ফেলেছে।কিভাবে?

দৃশ্যপটে আরেকটি চরিত্রের আবির্ভাব।কৃষকের বিপরীতে।হাতে বন্দুক,গায়ে লাল আলোর ঝলকানি। কাঁটাতারের সীমান্ত দেখা যাচ্ছে। সে একজন সীমান্ত রক্ষী।বিএসএফ।বিএসএফ কারা? তাদের কাজ দিয়ে চিনতে হয়। বাংলাদেশে যাদের চোখ কান কালা-অন্ধ-বোবা হয়ে যায় নাই,যারা ইন্দ্রিয় বিক্রি করে বেঁচে নাই,তারা ছাড়া সকলেই জানে। আমরাও এই কৃষকের নিয়তি জানি।এই তো ঘাতক তার নিশানা ঠিক করছে।তার প্রশিক্ষণ ও নিশানা অব্যর্থ।ইনডিয়া সরকারের প্রশিক্ষণ বৃথা যায় নাই। বিএসএফ বাহিনীর সদস্যরা নিপুণভাবে লক্ষ্যভেদ করতে পারে। সৈন্যটি কৃষকের গরু নিয়ে যায়।

কিন্ত বাংলাদেশের খয়ে যাওয়া রাজনীতিতে এই লাশের মিছিল কোন ভাবান্তর ঘটায় না।প্রতিবাদ প্রতিরোধ না করায় সহী।তাদের পেছনে পিঠ চাপড়ে দিচ্ছে প্রথম বিশ্বের ঘোড়সাওয়াররা।তাতেই তারা খুশি।তাই একমাত্র রাজনীতির ময়দানেই সরকারী দল আর বিরোধি দল ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানে লাঠালাঠি করেও বিজয়ের খোয়াব দেখে।এই অপূর্ব রঙ্গ তামাশা। এই রঙ্গ তামাশার ভেতরই চলতে থাকে শিশুটির জীবন।

নাটকের আঙ্গিক সম্পর্কে দলের কর্মী রাফসান গালিব বলেন, ‘এটি মূলত; ফোক মাইম ধাঁচের, পাশাপাশি এতে আছে নতুন ধরনের নিরীক্ষা। একে আমরা বলছি ডকুমাইমোড্রামা’। নাটকের বিষয় বিন্যাস নিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম দেশ বাংলাদেশকে তৃতীয় বিশ্বের মডেল করে এ গল্পের কাহিনী নির্মিত হয়েছে। ৭১-এর যুদ্ধে জন্ম হয়েছিল এ দেশের,এই প্রজন্ম দেখে নাই স্বাধীনতার সেই সূবর্ণক্ষন। বরং দেখেছে এবং নিয়ত দেখছে দখলবাজের স্বাধীনতা, অস্ত্রবাজের স্বাধীনতা, দেশ বিক্রির স্বাধীনতা,কালো টাকাকে সাদা করার স্বাধীনতা,সীমান্তে মানুষ হত্যার স্বাধীনতা। রাজনৈতিক অস্থিরতা,ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সামাজিক অস্থিরতা,তেল-গ্যাস-কয়লার উপর বহির্বিশ্বের লোভ,অস্থির সীমান্ত- সর্বোপরি বিদেশী মোড়লদের নানাবিদ অবৈধ হস্তক্ষেপে ক্ষতবিক্ষত তৃতীয় বিশ্বের সবগুলো দেশের কথা মূকাভিনয়ের মাধ্যমে উপস্থাপিত হয়েছে’। নাটকটির কাহিনী বিন্যাস,নির্দেশনা ও আলোক পরিকল্পনায় ছিলেন মাসউদুর রহমান,সঙ্গীত প্রয়োগে মঈদ উদ্দিন তৌহিদ এবং মঞ্চ ব্যবস্থাপনায় ছিলেন শোয়েবুল করিম।

এইবার কিশোরিটির কাছে আসা যাক।আমাদের চেনা কিশোরি। আমাদের কল্পনায়, গল্প, উপন্যাস, নাটক, সিনেমায় কিশোরি’রা এমনই হয়। অপাপবিদ্ধ। সে অনিন্দ্য, বিভ্রম আর ঘোর তৈরি করে। সে জীবনকে এইভাবেই দেখে। কি যে আনন্দময় উচ্ছল জীবন তার।পাখির সাথে,ফুলের সাথে,নদীর সাথে তার সখ্যতা।অনাদিকল্পের রূপায়নে এ যেন প্রাচ্যের নিত্য অভিজ্ঞান।মানুষ আর প্রকৃতি একই বোধে একই ছন্দে কথা বলে উঠে।কিন্তু চিরকাল কি মানুষের নিজেকে ভাগ না করার বোধ একইভাবে কাজ করে।না করে না,তাই প্রকৃতি তাকে আপন মমতায় নিজের কোলে ঠাঁই দেয়ার আগেই কিশোরিটিকে যেতে হয়।চলে যেতে হয়।এইভাবে ফেলানির লাশের সারি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়।এই মৃত্যু গুলির আঘাতে শেষ হয় না।নারী হবার কারণে ধর্ষনের শিকার হতে হয়। রাষ্ট্রের তাতে কি আসে যায়? না, রাষ্ট্রের প্রতি আমরা বেরহম না নই, সে তো দয়ার সাগর। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন গত ২৯ মে সাংবাদিকদের বলেছেন,‘বিএসএফের হাতে নিহত ফেলানি বাংলাদেশি নয়। তারা ভারতীয়। তার পরও সরকার পরিবারটির জন্য অনেক কিছু করেছে। আমি নিজে তাদের বাড়িতে গিয়েছি।’

৭ জানুয়ারি ২০১১, ফেলানিকে ধর্ষন ও হত্যার পর কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলিয়ে রেখেছিল কুড়িগ্রাম সীমান্তের বিএসএফ বাহিনী। থাক, ফেলানি নিয়ে এতো আবেগী হয়ে কাজ নাই।আমাদের বিজ্ঞাপন নির্ভর বিনোদনের বাজার সব কথা বলতে দেয় না।দর্শকের চোখের জলে সিক্ত হয় বিজ্ঞাপন।এই সময়ে প্রজেক্টরে ফেলানির ঝুলন্ত লাশের ছবি ভেসে আসে। আহ,ফেলানি। ফেলানি এই রাষ্ট্র যন্ত্র আর আমাদের পুত-পবিত্র বিবেকের সামনে ক্ষত হয়ে ঝুলে আছে।স্যামুয়েল টেইলর কোলরিজের ‘দ্যা এনসিয়েন্ট মেরিনার’ কবিতার আলবাট্রস পাখির মতো। পাপী মানুষের গলায় নিস্পাপ পাখিটি ঝুলে ছিল। ফেলানি ঝুলে আছে এই রাষ্ট্রযন্ত্র আর তার জনগণের সংকোচপূর্ণ স্বার্থপরতার গলায়। রাফসান গালিবের ডকুমাইমোড্রামার কথা মাথায় থাকলেও প্রজেক্টর ব্যবহারের দুর্বলতা নাটকের ধার কিছুটা কমিয়ে দেয়। মনে হচ্ছিল, মূকাভিনয়ের জগত থেকে হঠাৎ পিছলে বেরিয়ে এলাম বুঝি। ঘটনার আবেগী আবেদন দর্শককে এই ক্রুটিগুলো ভুলিয়ে দেয় হয়তবা, কিন্তু অপূর্ণতা যা থাকার রয়েই যায়। এছাড়া গ্রামের একটি দৃশ্যে মূকাভিনয়কে স্রেফ নির্বাক অভিনয় মনে হয়েছে। সঙ্গীতে অতিসামান্য বিভ্রান্তি লক্ষ্যণীয়।

দীর্ঘ সময় ধরে ঘাতকদের চেহারা নানাভাবে উম্মেচিত হতে থাকে। পিনপতন নিরবতায় শুধু চোখ জেগে থাকে। সে দেখে কিভাবে ভিনদেশি মনিবদের আদেশে দেশি দুই দল পরস্পরকে আক্রমন করে। নিজেদের খুন করে। সেই লাশের উপর নৃত্য করে বিজাতীয় প্রভু। না, তারা বিজাতীয় নয়। এরা সর্বব্যাপী, এরাই জাতীয়- বাকি সব প্রান্তিক, তৃতীয় বিশ্ব, তলাহীন, অকার্যকর রাষ্ট্র। তারপর তারা বাংলাদেশকে ইচ্ছেমত ভাগ করে নেয়। নতুন উপনিবেশ যুগের শুরু। সেখানে সবাই শ্রমিক। এইখানে পরিবার নাই, প্রকৃতি নাই। শ্রম, বাজার আর দাসত্ব। এইটাই কি মানুষের নিয়তি?

অনাদিকল্প তাদের ফোল্ডারে ফ্রাঞ্জ ফানো থেকে উদ্ধৃত করেছে,‘যতক্ষণ না তারা তাদের হাত গুটায় আমাদেরকে তাদের আঙ্গুলে আঘাত হানতে হবে।এটাই সুসময়।প্রথমবারের মতো শাশ্বত সত্যে আমাদের অভিযান ঘটিয়ে চলো ইতিহাস রচনা করি; চলো শুরু করি যুদ্ধ। যদি আর কোন অস্ত্র না থাকে তবে পড়ে থাকা ছুরিই যথেষ্ট’।

একসময় এই শত্রুদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে এক নারী। তার অনুগামী হয় অন্যরা। শত্রুকে হত্যা করে বন্দী দশা থেকে মুক্ত হয়। এবার শিশুদের নিজের হাতে স্মৃতির মিনার বানানোর সুদিন। সেই শিশুটি নিজ হাতে একটু একটু করে, স্মৃতির মিনার তৈরি করে। তারপর, আবার সেই বিপ্লবী ডাক। শিশুটির কন্ঠে শুনা যায়, অমর কথামালা। ‘এইবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম’।বর্তমান দলীয় সংকীর্নতার বলয়ে, বাংলাদেশের জনগণের মুক্তির বিষয়টি এত ক্রিটিক্যালভাবে দেখা মুশকিল হয়ে দাড়িয়ে ছিল। অনাদিকল্প সেই ঝুকিঁ নিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক পরিক্রমাকে পক্ষে-বিপক্ষের বাইরে এইভাবে পর্যালোচনাকে না করলে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া কঠিন। সেজন্য ইতিহাসের ভরকেন্দ্রের দিকে নজর দিতে হয়। এইভাবেই তৃতীয় বিশ্বের সমাপ্তি হয়। কোন এক দর্শক আবেগ সামলাতে না পেরে শ্লোগান দিয়ে ওঠেন, ‘জয় বাংলা’।

সব মিলিয়ে এটি একটি স্বার্থক প্রযোজনা। ফেলানি চরিত্রে ছিলেন প্রান্তিকা সাহা মুন্না। শিশু চরিত্রে ছিলেন তাহসীনুল হক মিরাজ। দুজনের অভিনয় দর্শকদের অনুভূতিতে নাড়া দিয়ে গেছে। আরো ছিলেন আসমা সাদেকা,সাদিয়া আফরীন,অনন্যা বিশ্বশর্মা, রোকন জাবেদ,শাকুর শাহরিয়ার, রাফসান গালিব, ওমান, সাইফুল্লাহ শাকিল, রুদ্র হাফিজ, রাহুল রায়, ইমতিয়াজ, মিলন ও আতিকুর রহমান সজীব।

দর্শকদের অনেকে উৎসবের সফল সমাপ্তির জন্য বাংলাদেশ মূকাভিনয় ফেডারেশনকে শুভেচ্ছা জানালেন। তারা নিশ্চয় এই উদ্যোগ আগামীতেও সচল রাখবেন। ততক্ষণে রাত নয়টা বেজে গেছে। মুসলিম ইনস্টিটিউটের সামনের অন্ধকার শহীদ মিনার, সেখানে কেউ নাই। কিন্তু সে স্বাক্ষী হয়ে আছে অনেক ভোরের। স্বাক্ষী হয়ে থাকবে আগামীকালের। আনন্দ বিষাদ দাসত্বের মুক্তির। প্রাণহীন, বোবা-কালা স্মৃতির মিনার।

>আলোকচিত্র: রনি’স ফটোগ্রাফির ফেসবুক পাতা।

Comments

comments

2 thoughts on “তৃতীয় বিশ্বে কথাহীন এক ঘন্টা

  1. The days of absence just prolong. Music, songs, fun all still make sense to me;the missing element is people. I miss Chittagong, I miss people I passed time with.

    Thanks to Masud, Galib and otheres for this time-fitting story design. It seems that intelect and creation have made friendship. we are grateful to Wahid Sujan to carry the message to the missing hearts.

    • শুকরিয়া বেলাল ভাই।
      আশা করছি ভালো আছেন।
      চট্টগ্রামকে আমিও খুব ফিল করি।
      অনাদিকল্পের জন্য শুভ কামনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *