সাদাত হোসাইনের ‘নিঃসঙ্গ নক্ষত্র’ পড়ার পর…

সাদাত হোসাইন বেশ আয়োজন করে লেখেন। তা-ই মনে হলো সর্বশেষ উপন্যাস ‘নিঃসঙ্গ নক্ষত্র’ পড়তে পড়তে। মোটামুটি সময় নিয়ে একটা গল্প বলতে চান তিনি। টুকরো টুকরো ঘটনা নয়, বরং মুহূর্তগুলোকে জোড়া দেন চুপচাপ, হঠাৎ উল্লফন খুব একটা চোখে পড়ে না। কিন্তু সময় তো বয়ে চলে। এ চলাচলের মধ্যেই ঘটনা চলমান বটে। এ ভাবটা বজায় রাখা দারুণ…

কে কারে চেনে না!

তোমারে চিনি না আমি। ‘তুমি’ কে? আর ‘আমি’? তুমি আর আমি কি একজন? নিজের সম্পর্কে বলা? নিজেকে ‘অপর’ করে দিয়ে চেনার তারিকা মন্দ না। প্রশ্ন হতে পারে ‘আমি’র গোলকধাঁধা থেকে মানুষ বেরুতে পারে কি-না। অন্তত ব্যক্তি মানুষ সর্বস্ব হয়ে উঠার এ জগতে নিজেকে বিচার করার ক্ষেত্রে। নাকি, ‘আমি’ ও ‘তুমি’ কোনো এক পরম জগতে এক…

কবির পুনর্জন্ম

পুনর্জন্ম শুনলে আমার নাকে খানিকটা ধর্মতাত্ত্বিক গন্ধ লাগে! আবার খানিকটা রোমান্টিসাইজও করি। খামতিপূর্ণ মানবজীবন বলে কথা! এ জনমে যা হয় নাই- তা অপর জনমে হবে এরকম একটা ব্যাপার আছে। অথবা যা অপর জনমে করি নাই, তা এ জনমে চাই। অথবা অপর জনমে যা যা পাইছি তার ষোলআনা হক্ব আদায় করতে চাই। এমন ভাব ব্যক্তিভেদে কেমন…

জাফর ইকবালের রিটিন ও কল্পবিজ্ঞানের বাচ্চালোগ দশা

মেলা বছর আগের কথা। মশিউল আলমের একটা উপন্যাস পড়ছিলাম। সায়েন্স ফিকশন বা কল্পবিজ্ঞান। নামটা ২০৯৯ বা এ ধরনের কিছু। বুঝা যাইতেছে ভবিষ্যতের গল্প। ওই সময়ে যৌনতার মাধ্যমে সন্তান জন্মদান ছিল নিষিদ্ধ বা লজ্জার বা অপ্রচলিত বিষয়। মানুষ তৈরি হয় কারখানায়। প্রেম হইতো পুরুষে-পুরুষে বা নারী নারীতে। তো, দুই তরুণ-তরুণী প্রেমে পড়ে আদিম পদ্ধতিতে সন্তান পয়দার…

বাংলাদেশের শত্রু-মিত্র ও মাসুদ রানা

নির্মাণাধীন জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ধ্বংসের জন্য রাঙামাটিতে ডিনামাইট পাঠাচ্ছে ইন্ডিয়া। পাকিস্তান কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের (পিসিআই) মাসুদ রানা যাচ্ছেন তা ঠেকাতে। এভাবে আবির্ভাব বাংলাদেশি সাহিত্যের একমাত্র বৈশ্বিক গোয়েন্দার। কাজী আনোয়ার হোসেনের লেখা মাসুদ রানা সিরিজের প্রথম বই প্রকাশ হয় ১৯৬৬ সালে। ৪৪৭তম বই প্রকাশের মাধ্যমে ১৭ মে ৫০ বছর পূর্ণ করছে ঐতিহ্যবাহী সেবা প্রকাশনীর সিরিজটি। এ লেখার বিষয়…

ওয়ালীউল্লাহ পাঠ : নাই এবং আছে

এক. ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত ‘কাঁদো নদী কাঁদো’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ (আগস্ট ১৫, ১৯২২-অক্টোবর ১০, ১৯৭১) তৃতীয় ও শেষ উপন্যাস। বিখ্যাত লেখকের বিখ্যাত এই উপন্যাসের এমনই ধারা- উদ্বেগসঙ্কুল পাঠকদের খুবই উদ্বেগের মধ্যে রাখে। অথবা পাঠকদের আপন আপন জীবন আর তার অনিশ্চিত বিস্তৃতি নিয়ে উদ্বেগসঙ্কুল করে তোলে। তাই, ক্ষীণকায় এই উপন্যাস পড়া চাট্টিখানি ব্যাপার নয়। নিত্য আহজারিতে দেহ-মন…