তাওহিদ ও বিজ্ঞান

OLYMPUS DIGITAL CAMERAইসলাম একত্ববাদী ধর্ম। তাওহিদের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক ভিত্তি অনুধাবণ হলো ইসলামে জ্ঞানার্জনের মূল বিষয়। খোদ ঈমান বিষয়টি অন্তরে স্বীকার করা, মৌখিক উচ্চারণ ও কাজের মধ্য দিয়ে অনুধাবিত হয়। তাই একত্বকে অনুধাবণ এর মূল বিষয়।  তাই ইসলামিক অর্থে কোনো কিছুকে চিন্তা করতে গেলে তাওহিদই মূল কথা। জ্ঞান-বিজ্ঞানে তাওহিদের সেই অনুধাবণ ওসমান বাকারের কথায়, Quran’s argument that the cosmic unity is a clear proof of divine unity. ইসলামে জ্ঞানচর্চার শুরুটা অবশ্য সৃষ্টিতত্ত্বের স্থান থেকে। তাই খণ্ডিত নয়,পরিপূর্ণ জ্ঞানার্জনের তাগিদ এখানে কাজ করে।

ইসলামের মূলমর্ম নিহিত আছে প্রথম কালেমায়, ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ অর্থ্যাৎ, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন প্রভু নাই। এটা আল্লাহর একত্ববাদ বা তাওহীদের মূল তাড়না। অন্যকথায় আল্লাহর একত্ববাদ স্বতঃসিদ্ধরূপে গ্রহন করে, তার প্রভুত্বের প্রতি অকপট ও পূর্ণ আনুগত্য স্বীকার করা। লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ সুত্রের সত্যতার স্বসাক্ষ্য বা শাহাদাহ প্রদানে ইসলামী চিন্তার সূচনা এবং মানব জীবনে এর বাস্তবায়নে ইসলামী জীবন ব্যবস্থার চরম সাফল্য। এই ফর্মুলা ছাড়া ইসলামী চিন্তা অচল। সুতরাং, ইসলামী জ্ঞানকাণ্ড শুধুমাত্র জ্ঞানের জন্য জ্ঞানের অনুসন্ধান নয়, নয় কোন পেশাগত রুটিরুজির চিন্তা। এর মধ্যে নিহিত আছে হইলৌকিক ও পারলৌকিক কল্যাণের ধারণা। জ্ঞানার্জনের ধারণার ক্ষেত্রে পাশ্চাত্যের চিন্তা পদ্ধতি ধারণামূলক বা এক ধরণের প্রাকল্পিক যুক্তির শিকল দ্বারা এর ভিত্তি ও সত্যতা যাচাই-বাছাই গ্রহণ করা হয় কিন্তু এর বিপরীতে ইসলামী চিন্তা পদ্ধতি আদর্শগত এবং ব্যবহারিক পদ্ধতিতে এগিয়ে যায়। এর সামনে পাহারাদার হয়ে থাকে গায়েবী বিশ্বাস, আল্লাহর ওহি এবং রাসূল (সঃ) এর হাদিস। এখানে স্রষ্টা ও সৃষ্টি বা সৃষ্টিতে সৃষ্টিতে সম্পর্ক বিচার এক সমাগ্রিক সুত্রায়ণের ভেতর দিয়ে ঘটে। এটা শুধুমাত্র বিশেষ শাস্ত্র বা তার ফল লাভ নয়, অপরাপর সকল জ্ঞানকান্ডের বিকাশ তাওহীদের চৌহদ্দির মধ্যে ঘটে।

TAWHID AND SCIENCE: Islamic perspectives on Religion and Science (বুকস গুগল লিংক) বিখ্যাত গবেষক ও প্রফেসর এমেরিটাস ওসমান বাকারের গুরুত্বপূর্ণ বই। বর্তমান সময় বিজ্ঞানের নানা আবিষ্কারে মুখর। মানুষ পৃথিবী ছাড়িয়ে দূর গ্রহ-নক্ষত্রে অভিযান চালাচ্ছে। এই বিজ্ঞান এগিয়ে গেছে মানুষের চিন্তার ইতিহাসের সাথে। তাই একে বাদ দিয়ে ইসলামিক দুনিয়া তার হইলৌকিক কর্মযজ্ঞের বাইরে যেতে পারছে না। কিন্তু একইসাথে তাওহীদের ভিত্তিতে দাড়িয়ে আছে হইলৌকিক কল্যাণ ও পারলৌকিক মুক্তির ধারণা। তাই জগত ইতিহাসের মধ্যে ইসলামের নিজস্ব সাড়া, বয়ান ও ব্যাখ্যার প্রয়োজন আছে। প্রয়োজন আছে প্রতিটি কর্মের ভেতর মহান আল্লাহ-তায়ালার একত্ব অনুধাবণ। বিজ্ঞানকে কেন্দ্র করে সেই দরকারী কাজটি করেছেন ওসমান বাকার। কয়েক দশক ধরে বহুল চর্চিত জ্ঞানের ইসলামীকরণ ও এ পক্রিয়ায় উন্নয়ন অভিমুখী মুসলিম দেশগুলোর জন্য এই বইটির গুরুত্ব অপরিসীম।

ওসমান বাকার তার এই বইয়ে চারটি প্রধান বিষয় ধরে আলোকপাত করেছেন। ১. ইসলামিক বিজ্ঞানের জ্ঞানতাত্ত্বিক ভিত্তি, ২. ইসলামিক বিজ্ঞানে মানুষ, প্রকৃতি ও স্রষ্টার সম্পর্ক বিচার, ৩. পশ্চিমের সাথে ইসলামী বিজ্ঞানের তুলনামূলক আলোচনা এবং ৪. ইসলাম এবং আধুনিক বিজ্ঞান।

এই বইয়ের আলোচ্যের দিকে লক্ষ্য রেখে তাকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের মোকাবেলা করতে হয়েছে। যেমন- ইসলামিক বিজ্ঞান কি? কোথায় দাড়িয়ে ইসলামী বিজ্ঞান বিজ্ঞানের প্রচলিত ধারার চেয়ে আলাদা হয়ে গেছে। ইসলামী বিজ্ঞান বলতে কি বুঝায়, সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, The totality of the mathematical and natural sciences, including psychology and cognitive science, cultivated in Islamic culture and civilization for more than a millennium beginning from the third century of the Islamic era [ the ninth century of the Christian era].

তাওহিদের অনুধাবণের দিক থেকে এই বিজ্ঞান নিজের পরিচয়ের স্বাতন্ত্র্যতা রক্ষা করে। এটা বিশ্বাস, উচ্চারণ এবং কর্মের সাথে সম্পর্কিত। According to Islam, the core of religion is the doctrinal acceptance and the practical realization of al-tawhid in all domains of human life and the thought. This means that the Muslims creation of science has to be significantly related to al-tawhid.

তিনি আরো বলেন, The way the Muslims have done it, they relate science to al-tawhid through giving meaningful expressions in both theory and practice to two of the latter’s most fundamental corollaries, namely the principle of cosmic unity, particularly the unity of the natural world and the principle of the unity of knowledge and of the sciences. Muslim Philosopher-scientists make the two corollaries as both the foundation and the goal of science. [P: xvii and xviii]

ওসমান বাকার তার বইয়ের মধ্যে তাওহিদ ও বিজ্ঞানের সেই সম্পর্ক বিচারে গেছেন। এই সম্পর্ক বিচারকে তিনি একইসাথে জ্ঞানতাত্ত্বিক ও অধিবিদ্যিক দিক থেকে মোকাবেলা করছেন। ভাষায় স্বর্গীয় একত্বের অধিবিদ্যিক তত্ত্ব বলছেন। বিজ্ঞান মানবিক জ্ঞানমূলক বৃত্তি হিসেবে এই জগত ও জগতস্থ নানা প্রপঞ্চকে আমাদের সামনে নতুন নতুনরূপে পরিচিত করে তোলে। সেই পরিচয়ের যে সূত্র তার সাথে মানুষের নিজের জিজ্ঞাসা, যে জিজ্ঞাসা সে প্রবৃত্তিগতভাবে প্রাপ্ত বৃত্তিসমূহ তার সাথে যুক্ত। বলা হচ্ছে পশ্চিমা জ্ঞানে যা শুধুমাত্র বস্তগত সত্য হলে চলে, ইসলামে তাকে বস্তুগত সত্যের সাথে সাথে ভালোও হতে হয়। তাই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সর্বনাশ নিয়েও আমাদেও সচেতন থাকতে হয়। ফলে বিজ্ঞান-অপবিজ্ঞান এই ধরনের আলোচনা আমাদের মাঝে বিরল নয়।

বইটির অধ্যায়গুলো বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জার্নালে প্রবন্ধাকারে প্রকাশিত। এদের মধ্যে আছে অন্তগত সম্পর্ক- এই সম্পর্ক বিজ্ঞান ও তাওহীদের মর্মকথা ধরতে তৎপর।

এই বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো জ্ঞানানুশীলনে পাশ্চ্য এবং ইসলামিক প্রেক্ষিতে তুলনামূলক আলোচনা। এই আলোচনায় প্রাথমিক যুগের পরমানুবাদ থেকে শুরু করে আজকের যুগের জৈবনীতিবিদ্যা অন্তর্ভুক্ত। এর উল্লেখযোগ্য আলোচনাটি হলো ইমাম আল-গাজালীর সংশয় সম্পর্কিত। জ্ঞানের সাথে সংশয়ের সম্পর্ক পাশ্চ্য ও পাশ্চাত্যে নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সংশয়ের মাধ্যমে প্রশ্ন জাগে, তার মোকাবেলায় আমরা কোন সিদ্ধান্তে পৌছি। কিন্তু ইসলামে এই সংশয়ে মৌলিক পার্থক্য লক্ষ্যণীয়। আমরা দেখি প্রারম্ভিক সংশয়মূলক প্রশ্ন থেকে প্রাচীন গ্রীসে থেলিসের যাত্রা যেভাবে শুরু, একইভাবে আধুনিককালে এসে আমরা পাই ফরাসী দেশের রেনে ডেকার্তকে। ডেকার্ত তার বিখ্যাত বই মেডিটেশন অন ফার্স্ট ফিলোসফিতে এর বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি দেখান কি করে অভিজ্ঞতা ও বুদ্ধির জগতের ভ্রান্তি তার সামনে উম্মোচিত হয়। তার অনুসন্ধান ছিলো নিশ্চিত জ্ঞানের সৌধ নির্মাণ, যা দিয়ে অন্য সকল কিছু ব্যাখ্যা করা যায়। পরিশেষে ডেকার্ত ‘আমি চিন্তা করি,তাই আমি আছি’ এই সিদ্ধান্তে তিনি পৌছান। এটা আধুনিক পাশ্চাত্যে জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রধান সুত্রাকারে কাজ করে।

ডেকার্তের এই সংশয়ের প্রায় সাতশত বছর আগে ইমাম আল-গাজালী সংশয়ে আপতিত হন। যেটাকে প্রায়শ ডেকার্তের সংশয়ের অনুরূপ বলা হয়। এই তুলনা পাশ্চ্য ও পাশ্চাত্য দুই জায়গায় ঘটেছে। কিন্তু এই দুইয়ের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য আছে। ওসমান বাকার দেখিয়েছেন তাওহীদ প্রশ্নকে সামনে রেখে গাজালী তার সংশয় দূর করেছেন। ইমাম আল-গাজালী তার ‘আল-মানকিদ মিন আল-দালিল’ বা ভ্রান্তির অপনোদন বইয়ে এই বিষয়ে বিস্তারিত বয়ান করেছেন। এইখানে দুটো বিষয় লক্ষ্য করার বিষয়। প্রথমত. বুদ্ধিবৃত্তিক, ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ তার সময়ে কেমন ছিলো। দ্বিতীয়ত: গাজালী নিশ্চিত হওয়া বলতে কি বুঝিয়েছেন। কোন কিছু নিশ্চিত বা প্রকৃত বা as they really are (আল ইলম আল ইয়াকুন, হাকিক আল উমার) কিনা এই প্রশ্নেরই উত্তর তার অনুসন্ধানের বিষয় ছিলো। কিন্তু সেটাকে তিনি সবকিছুতে ছড়িয়ে দেন নাই। বস্তুর অন্তর্গত প্রকৃতির বিচার শুধু তার বুদ্ধিবৃত্তিক সন্দেহের মীমাংসা নয়, বরং এর পেছনের অনুপ্রেরণা মহানবী (স:) এর হাদিস । জ্ঞেয়বাদের দিক হতেই তার সিদ্ধান্ত, ‘আমি ইচ্ছা করি, তাই আমি আছি’। ডেকার্তের ‘আমি চিন্তা করি তাই আমি আছি’র সাথে গাজালীর এই ‘আমি ইচ্ছা করি, তাই আমি আছি’র মধ্যে মৌলিক তফাত আছে। সেই তফাত ঠিক করে দেয় তাওহীদি যাত্রা নিছক দুনিয়াবী যাত্রা থেকে আলাদা। ধর্মীয় সচেতনতা উপর দাড়িয়ে থাকে যে বিজ্ঞান সেটা   বস্তুর বাস্তব সত্যকে ধারণ করে। কিন্তু এর সাথে রাজনৈতিক প্রশ্ন, বিশেষ করে জ্ঞান-বিজ্ঞান নানা ধরণের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে ধারণ করে চলে সেই প্রশ্ন বা প্রেক্ষিতের মীমাংসা এই বইয়ে পুরোপুরি হয় নাই। অথবা তিনি এই প্রশ্নগুলোকে আগেই মীমাংসা হয়েছে এমন সিদ্ধান্তে আলোচনা করেন নাই।

মোট চারটি ভাগে বারো অধ্যায়ের বইটির বিষয়সূচীর সাথে পরিচিত হওয়া যাক। প্রথম অংশ The Epistemological Foundations of Islamic Science তিনটি অধ্যায়ে বিভক্ত। এখানে আলোচিত হয়েছে ধর্মীয় সচেতনতা এবং ইসলামী ঐতিহ্যের মধ্যে বৈজ্ঞানিক স্পিরিট। যেহেতু ইসলামের পরিধি একজন মুসলমানের জীবন-যাপনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যাপিত, সেখানে বিজ্ঞানের এক ধরণের সামগ্রিক ভূমিকা আছে। ইসলামী দুনিয়ার ধ্রুপদী দার্শনিকদের জীবন ও কর্মে সেটা স্পষ্ট। এর পরের অংশে আলোচিত হয়েছে ইসলামী বিজ্ঞানের পদ্ধতিগত দিকের প্রশ্নসমূহ। এখানে তিনি বলেন, পদ্ধতির কথা বললে এমন পথের কথা বলা হয়, যা বাস্তবতার জ্ঞান দেয়। যা দাড়িয়ে থাকে মনোজাগতিক এবং বস্তু জগতের প্রতি পরিপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির ওপর। তৃতীয় অধ্যায়ে ইমাম আল-গাজালীর সংশয়বাদ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এই আলোচনায় ওসমান বাকার আল-গাজালীর সংশয়ের চৌহদ্দি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, পশ্চিমা সংশয়বাদ সাথে তাওহীদি বিশ্বাসের মৌল পার্থক্য আছে ।

বইয়ের দ্বিতীয় ভাগ Man, Nature and God in Islamic Science. এর প্রথম অংশে আলোচনা করা হয়েছে বৈজ্ঞানিক এবং আধ্যাত্মিক জ্ঞানের একত্বের দিকটি। এটি ইসলামী জীবনাচরণের অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে শানিত হয়। ইসলামী জ্ঞানকান্ডে প্রাকল্পিক বা ধারণাপ্রসূত জ্ঞানের কোন স্থান নাই। বরং, জীবন যাপনের মধ্য দিয়ে সত্যকে হৃদয়ঙ্গম করার এক দুর্নিবার কাঙ্খা এতে বিদ্যমান। পাশ্চাত্য জগতে অনেকক্ষেত্রে গুরুত্ব হারানো অধিবিদ্যার মৌলিক সম্পর্ক বিচার এখানে ধরা পড়ে। এর পরের অংশে আলোচনা করা হয়েছে আশারিয়া ধর্মতত্ত্ব। তাদের আলেচনার বিষয় হলো পরমাণুবাদ। ছয় নাম্বার অধ্যায়ে আলোচনা করা হয়েছে ইসলামী ঔষধশাস্ত্রের দর্শন। ইসলামী দর্শন ঐতিহ্যের জ্ঞানচর্চার যে পরম্পরা চিকিৎসাশাস্ত্রের ইতিহাস স্বর্ণাক্ষরে লেখা। এই চিকিৎসা বিজ্ঞান হলো হলিস্টিক দৃষ্টিভঙ্গি, যা কৃত্রিমতা নয় প্রকৃতির সাথে মানুষের সম্পর্ক নিয়ে রচিত। একই সাথে লৌকিক জ্ঞানকাণ্ড এবং এর তাৎপর্য আলোচিত হয়েছে।

বইয়ের তৃতীয় ভাগের শিরোনাম Islamic Science and the West. এটা দুটো অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে। মধ্যযুগের খৃষ্টান ইউরোপ মুসলিম সভ্যতা দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত ছিলো। প্রকৃতি সম্পর্কীয় ধ্যান-ধারণায় তারা মুসলিম মনীষীদের কাছে কৃতজ্ঞ। এই অংশে সেই প্রকৃতি ধারণাতে ইসলামী বিজ্ঞানের প্রভাব আলোচনা করা হয়েছে। আরো আলোচিত হয়েছে কবি, দার্শনিক ও বৈজ্ঞানিক ওমর খৈয়াম কর্তৃক  ধ্রুপদী জ্যামিতিবিদ ইউক্লিডের সমান্তরালবাদের সমালোচনা।

বইটির চর্তুথ এবং সর্বশেষ ভাগ হলো Islam and Modern Science. এই অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে জীব নীতিবিদ্যা, আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে মুসলিম বুদ্ধিজীবিদের সাড়াদান, ইসলাম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সম্পর্ক বিচারে মুসলিম ঐতিহ্য, বর্তমান এবং ভবিষ্যতের রূপরেখা কেমন হতে পারে। একদম শেষ অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে তাওহীদ ও শারিয়াহর দিক হতে প্রায়োগিক এবং প্রকৌশল বিজ্ঞানকে বিচার। নৈতিকতার আলোচনা বিভিন্ন বিজ্ঞানে নানাভাবে আলোচিত, কিন্তু স্বর্গীয় সুস্পষ্ট নির্দেশনা নৈতিকতার ভিত্তিরূপে গ্রহন না করায় আজকের পাশ্চাত্য বিজ্ঞান জীবন ও জগতে নানা সমস্যা তৈয়ার করছে।  সেই সমস্যারূপে ইসলামের শিক্ষা আলোচনা করেছেন। এই অধ্য্যায়ের শেষে যোগ করেছেন আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির একটি সম্বন্বিত কোর্সের সিলেবাস। এই কোর্সে Philosophy of the Applied and Engineering Sciences এর অধীনে প্রধান দুটো আলোচ্য হলো Epistemological Issues এবং Ethical Issues.

এই বইয়ের শেষে যুক্ত করা হয়েছে প্রয়োজনীয় বইয়ের তালিকা এবং নির্ঘন্ট। এছাড়া পরিশিষ্টে যোগ করা হয়েছে এই বইয়ের দুটি গুরুত্বপূর্ণ রিভিউ। রিভিউ দুটি লিখেছেন রেজা শাহ-কাযেমী এবং এরিক উইংকেল। এছাড়া বইয়ের শুরুতেই মুখবন্ধ লিখেছেন আরেক খ্যাতিমান দার্শনিক সাইয়েদ হুসেন নসর। যা এই গুরুত্বপূর্ণ বইকে আরো ঋদ্ধ করেছে।

TAWHID AND SCIENCE: Islamic perspectives on Religion and Science, OSMAN BAKAR , Arah Publications, Malaysia, 2nd Edition. 2008, 316+44PP.

*বই পরিচিতিটি বিআইআইটি-র ফেলোশিপের অধীনে বছর দুয়েক আগে লেখা। কয়েকটি শব্দ পরিবর্তিত।

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *