মেঘ দেখার দিনে মেঘনায়

এক.

মেঘ দেখার সবচেয়ে সুন্দর সময় কোনটা? শরৎকাল। মেঘের কতো বাহার। কিছু মেঘ আকাশের গায়ের আটকে থাকে, কিছু লটকে থাকে, কোনটা তুলার মতো, কোনটা স্রেফ ধোয়ার মতো, আবার কোনটা স্রেফ আপনার কল্পনায় গজিয়ে উঠা। চাইলে মেঘের রাজ্যে নিজের ছবিটাও খুঁজে পেতে পারেন, যদি মেঘের রাজ্য ভালোবাসেন! শুধু মেঘ দেখে বেড়াবেন- তা কি হয়। কখন এসে এক পশলা বৃষ্টি আপনাকে ভিজিয়ে দেবে। তার আগাম সংকেতও মেঘের রাজ্যে থাকে।

মেঘ দেখার দিনে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিলো বৃষ্টি মাথায় নিয়ে। এই মেঘ-বৃষ্টি-রোদে আমরা ছাতার কোন খোঁজ নিই নাই। আমাদের যাত্রাস্থল লক্ষীপুর জেলার মজু চৌধুরীর ঘাট। রীতিমতো একটা জেলা পার হয়ে আরেক জেলায়। কতক্ষণ সময় লাগবে আইডিয়া নাই। …তবুও এই পথ চলাতেই আনন্দ।

আমরা যাত্রা শুরু করছি নোয়াখালীর সোনাপুর থেকে। রোদ-বৃষ্টির খেলায় ভ্যাপসা গরমে আধুনিক পরিবহনে আমরা চললাম লক্ষীপুর। মজু চৌধুরীর ঘাট পড়েছে লক্ষীপুরের সদর উপজেলায় । লক্ষীপুর থেকে আট কিলোমিটার মজু চৌধুরীর ঘাট। যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো। প্রথম এক কিলোমিটার রিকশায় করে লক্ষীপুর বাজার। ভাড়া পনের টাকা। তারপর মাথা পিছু ত্রিশ টাকায় সিএনজিতে সরাসরি ঘাট। নারিকেল আর সুপারীর বাগান দেখতে দেখতে সময়টুকু কেটে যায়। রাস্তার শেষ অংশটুকু কেন যেন পতেঙ্গা যাবার কথা মনে করিয়ে দেয়।

এই ঘাট থেকে ভোলা ও বরিশালের ফেরি চলাচল করে। সুতারং, পর্যটক ছাড়াও এমনিতেই লোকের আনাগোনা থাকে। আছে মাছের পাইকারী আড়ত। একই সাথে এখানে আছে দুটো স্লুইসগেট। লক্ষীপুর  ও পাশের জেলা নোয়াখালী থেকে নেমে আসা জল হোরাখালি খাল এবং কাটাখালি নদী হয়ে স্লুইসগেট দিয়ে মেঘনার মেশে। সেই জলের তেজ দেখার মতো। বিশাল বিশাল ঢেউ তোলে। সেই ঢেউয়ে তাবৎ নৌকা নাচে। এইগুলো যে সে নৌকা নয়। রীতিমত সাজানো গোছানো সংসার। প্রথম দেখায় বেদে নৌকা মনে হতে পারে। কিন্তু তাদের সাথে ঢের তফাত। এগুলো জেলে নৌকা। একেকটা নৌকায় একেকটা পরিবার। তেমন এক নৌকায় বাস করে সাগরের পরিবার। তার বাবা হারুন মাঝি। সাগর’রা দুই ভাই এক বোন। সাগরের বয়স এগারো। সে ভাই বোনদের মধ্যে বড়ো। সাগরের কথায় একটু বিরতি দিয়েই আসছি।

প্রথমেই আমরা ল্যান্ডিং স্টেশনে গিয়ে দাড়ালাম। সেখানে থেকে নদীকে আহামরি কিছুই মনে হলো না। দিকভ্রান্তির কারণে স্লুইসগেট আর মেঘনাকে ঘুলিয়ে ফেলেছি। স্লুইসগেট দিয়ে প্রবল বেগে পানি নেমে আসছে। অনতিদূরে দেখা যাচ্ছে ফেরি জাহাজ। একটু পরই ভোলার উদ্দেশ্য যাত্রা করবে। এই সুযোগ জাহাজে উঠার। পরেরটা যেতে চার-পাঁচ ঘন্টা বাকি আছে। পরিকল্পনা নাই- তাই সে সুযোগ ভবিষ্যতের জন্য তোলা থাকল।

ইঞ্জিনের নৌকায় নিয়ে ইতস্তত করছিলাম কেন? কারণ মিলেছে এই- অহেতুক গতিই যেন আমাদের হৃদস্পন্দনের সাথে মিলে। ধীর গতি বা স্থিতিকে বিদায় দেবো বলে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

ইঞ্জিন নৌকায় প্রায় বিশ ত্রিশজন যাত্রী ধরে। নৌকা ভর্তি হলেই নদী ভ্রমন শুরু হয়- জন প্রতি পঞ্চাশ টাকা। দরাদরি করে আমরা দমলাম, নৌকার মালিক দমল না। এই দিকে আর কোন যাত্রীও দেখলাম না। ঠিক আছে এই সুযোগে আশে পাশে ঘুরে আসা যাক। পার হলাম মাছের আড়ত। বড় সাইনবোর্ড জুড়ে লেখা আছে জাটকা শিকার বিরোধী কথাবার্তা। স্লুইসগেট পার হয়ে আরো এগিয়ে গিয়ে কোষ্ট গার্ড। ঘটনা যাই হোক- সাগরের নৌকায় কারেন্ট জাল থেকেই টের পাওয়া যায় জাটকা ধরা পড়ছে অবাধে। কোষ্ট গার্ডের ঘাট লাগোয়া মসজিদ। এ পাড়েও দেখি আরেকটা স্লুইসগেট। দুই স্লুইসগেটের মাঝামঝি অংশটুকুতে নদীর দিকে এগিয়ে গেছে। অনেকটা উপদ্বীপের মতো। সেই অংশ যেখানে নদীতে মিশেছে, সেখানে রং-বেরঙের নৌকার সারি। সেখানেই সাগরের সাথে দেখা। বলল তার সাথে যাবো কিনা। দুটো কারণে তার সাথে যাবার সাহস পাচ্ছিলাম না। প্রথমত; পুচকে এই ছেলে একরত্তি নৌকা নিয়ে কতদূর যাবে। দ্বিতীয়ত; ইঞ্জিনের নৌকার গতি। পরেই চিন্তা করছিলাম ইঞ্জিনের নৌকায় নিয়ে ইতস্তত করছিলাম কেন। কারণ মিলেছে এই- অহেতুক গতিই যেন আমাদের হৃদস্পন্দনের সাথে মিলে। ধীর গতি বা স্থিতিকে বিদায় দেবো বলে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

সাগরও জনপ্রতি পঞ্চাশ টাকা চায়। আশ্বস্ত করে বলল, এই নৌকায় আগের দিন ছয় জনকে ঘুরিয়ে এনেছে। একজন বয়স্ক জেলের পরামর্শ চাইলে জানালেন, সাগর ঘুরিয়ে আনতে পারবে। দরাদরি করে একশ বিশই সই। আসার পথে পনের টাকা বেশি দেয়া হলো।

দুই.

পায়ের পাতা ভিজিয়ে আমরা নৌকায় উঠলাম। নদীর জলে পা ভিজালে কেমন যেন শিরশির অনুভূতি জাগে। সমুদ্রের জলে পা ভিজালে এর বিশালতা টের পাওয়া যায়। আর নদীর জল কোন গহীনে টানে। মেঘনার ঘোলা জল সেই গহীনকে আরো রহস্যময় করে তোলে।… নদীর জল ঘোলাও ভালো। তবে জল দেখার জন্য উৎকৃষ্ট হলো নেত্রকোনার সুসং দুর্গাপুরের স্বচ্ছ পাহাড়ী নদী সোমেশ্বরী। সেই কথা থাক। এটা আসলে মূল মেঘনা না, এই অঞ্চলের তাবৎ জল একত্রিত করে মাইল দেড়েক পথ বেয়ে সে মেঘনায় মিলেছে। এটার আলাদা কোন নাম নাই। সাগরের যেমন উপসাগর থাকে, এমন। মেঘনার জম্মপূর্ব ভারতের পাহাড়ে। সে জম্মসুত্রে সেই জলধারার উপর বহাল নানান খবরদারি। সর্বশেষ টিপাইমুখের ইতিহাস আমাদের কারো অজানা নয়। তারপর সিলেট অঞ্চল দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে চাঁদপুরের কাছে পদ্মা নদীর সাথে মিলিত হয়ে মেঘনা নাম ধারণ করেছে। এর আগে তার প্রবাহগুলো নানা নামে দেশের নানা অঞ্চল দিয়ে প্রবাহ হয়েছে। কি জানি হয়তো একসময় এইসব প্রবাহই মেঘনা নামের কোন ক্ষীণধারাকে টিকিয়ে রাখবে। আর কোন নাম না নিয়ে মেঘনা সর্বশেষে মিলেছে বঙ্গোপসাগরে।

নানা রঙের নৌকাগুলো আস্তে আস্তে দূরে সরে যাচ্ছে। তখনো জানতাম না এই নৌকাগুলোই কিছু মানুষের শীত গ্রীষ্ম বসন্তের আবাস। তাদের বয়স ও শরীরের শীত গ্রীষ্ম বসন্তও এই বসতে গড়িয়ে চলে। একেকটা পরিবার একেকটা নৌকা। তাদের ঘরকন্নার যাবতীয় কাজ এই নৌকায় ঘটে। সুন্দর করে গোছানো বাসন কোসন ও জিনিসপত্র দেখা যাচ্ছে। নৌকায় নৌকায় মিতালী, নৌকায় নৌকায় বিয়ে শাদী, বন্ধুত্ব, ঝগড়া-ঝাটি। বেদেরা জলে ভাসে। জেলেরাও। এদের মধ্যে পার্থক্য কি? পার্থক্য আছে। এরা আচারী মুসলমান। এদের আলাদা কোন রীতি নাই। তফাত হলো জল আর স্থল। যেহেতু গভীরতর প্রশ্ন নিয়ে সামনে আসি নাই- তাই পুরো গোমর ফাঁস হয় নাই। তবে, এটা ঠিক অবস্থান ভেদ অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এতে অনেক কিছু পাল্টে যায়। যেমন- স্থলের মানুষেরা খিজির আর বদরের খবর কমই রাখে। জলের মানুষেরা রাখে।

>আপনাকে চেনা চেনা লাগছে?
>আমারে চেনা চেনা লাগার তো কথা না। এই মুলুকে এর আগে আমি আসি নাই।
>তাইলে মনে হয় টিভি-তে দেখছি!
>টিভিতে?
>মনে পড়ছে আপনার চেহারা এক গায়কের মতো।
>কোন গায়ক?
>নাম তো জানি না। সে দক্ষিণ আফ্রিকার গায়ক।
>আর মানুষ পাইলা না। তার চামড়া নিশ্চয় কালা না। আমিও তত সাদা না। সাদা গায়ক হইলেও তো সমস্যা। সেইখানকার সাদা শুনছি বদ কিসিমের। 

সাগরের জলের জীবনটাই ভালো লাগে। এর বাইরে নাকি সে স্বস্থি পায় না। তাদের অগুনিত পুরুষ – নারী এই জলের সাথে সম্পর্ক গেড়েছে। কিন্তু কেউ কেউ যে জলের বাইরে থাকে না- এমন না। সাগরের এক চাচা যিনি আগে জেলে ছিলেন, এখন জমি কিনে বাড়ি ঘর বানিয়েছেন। কৃষি কাজ আর ব্যবসা পাতি করেন। তিনি আর জেলেগিরিতে ফিরেন নাই। মাঝে মাঝে হারুন মাঝি ও তার ছেলে মেয়েরা সেখানে বেড়াতে যান। কিন্তু তাদের যৌথ অভিজ্ঞতা বলে জলের দুলুনী ছাড়া ভালো লাগে না। ভালো না লাগলেও জগতের সকল বৈচিত্র্যতা যেভাবে এক হয়ে যাচ্ছে- সেখানে তারা কি করে উল্টো পথে চলেন। তাই হারুন মাঝিও টাকা জমিয়ে জমি কিনেছেন মজু চৌধুরী ঘাটের কাছাকাছি। সেখানে তিনি চাষবাস করেন।

আমরা বেশ তড়তড়িয়ে যাচ্ছিলাম। ভাটার টান নৌকাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। শুধু দাঁড়টা ধরে রাখা। পায়ের কাছে স্তুপ হয়ে আছে কারেন্ট জাল। এই জালের দাম আটশ টাকা। এই জাল নিয়ে নদীর তীর থেকে বেশি দূর যেতে হয় না। যেখানে জাল ফেলে নদী সাফ হয়ে মাছ উঠে। নদীর তীর ঘেষে ড্রাম ভাসিয়ে জালের ছোট ছোট ঘের তৈরী করা হয়েছে। এই জালে ভেতর তেলাপিয়ার চাষ হচ্ছে। আরেক ধরণের জাল নদীর তীর ধরে ফেলে রাখা হয়েছে। জোয়ারে সময় শুধু লম্বা কাটির সাথে জুড়ে দেয়া হয়। কেউ কেউ হাত জাল দিয়ে মাছ ধরছেন। বড়শীওয়ালার সংখ্যাও কম নয়। তারা এসেছেন লক্ষীপুর সদর থেকে। মাছও কম পান নাই।

ইতিমধ্যে ফেরি ছেড়ে গেছে। নানা রঙের নিশানা লাগানো ইঞ্জিনের নৌকাগুলো ছুটে যাচ্ছে। অনেকে আমাদের প্রতি নানা ধরণের তির্যক মন্তব্য ছুড়ে দিচ্ছে। কেন? হয়তো গতি সবসময়ই স্থিরতাকে ব্যঙ্গ করে। আবার তার আশ্রয়ও খুজেঁ। আমরা পানি ছুড়ে দিয়ে তার জবাব দিলাম। আমরা তো ইচ্ছে হলে হাত দিয়ে জল ছুয়ে-ছিটিয়ে দিচ্ছি আবার জলে পা ডুবিয়ে বসি। ইঞ্জিন তাদের সেই ছোয়াছুয়ি থেকে বঞ্চিত করেছে। না, এই নৌকায় চড়া বোকামী হয় নাই।  নদীর এক পাশে ধনঞ্চে বন। সেই বনে নামলাম। পায়ের তলে কাদামাটি আর মাথার উপর আকাশ। শরতের আকাশ। নানা আকৃতির মেঘ। আর হাওয়া আমাদের শরীর জুড়িয়ে দিলো। রোদ বৃষ্টির ভ্যাপসা ভাবটা শরীর থেকে সেই কবে বিদায় নিয়েছে। নদীর স্বস্থিটুকু দেহ-মনে টের পাচ্ছিলাম। আমাদের সাথে আরো দুটো নৌকা এসে যোগ দিলো।

তিন.

সাগরের কথা শুনছিলাম। এই বয়সেই তার মধ্যে নির্লিপ্ত ভাব। তারা চাইলে তিনবেলায় মাছ খেতে পারে। কিন্তু তার নাকি মাছ থেকে তত ভালো লাগে না। তার ভালো লাগে আলু ভর্তা আর ডাল। দুইবেলা ভাত আর সকাল বেলা হোটেলের পরোটা আর তরকারি। তাদের কেউ কেউ স্কুলে যায়, তবে খুব একটা বেশি পড়াশোনা করে না। সাগরকে জিজ্ঞেস করি- তোমাদের নামে চিঠিপত্র আসে না? চিঠিপত্রের ঠিকানা কি? সে একটু অবাক হয়। প্রথমে বুঝতে পারে না। না, তাদের কাছে কোন চিঠি আসে না। অবশ্যই এই যুগে উড়োচিঠির চেয়ে কথা আরো জোরে উড়ে। সাগরেরও সেটা অজানা নাই। মাঝে মাঝে আনমনা পানকৌড়ি আমাদের ডাকছিলো। হাতছানি দিয়েই যেন কাছে ডাকে। তারপর কাছে গেলো- মুখ ফিরিয়ে দে ছুট। এই ছুট অপ্রত্যাশিত নয়। এই ছুট দেখে দেখে তো আমাদের বেড়ে উঠা। তারপর প্রশ্ন করি …পাখিটি ছাড়িলো কে!

এটা হইল কারখানা। বলেন তো কিসের কারখানা?

সে স্রোত আমাদের টেনে নিয়ে গেছে। সেই স্রোতই এখন ফিরতে বাধা দিচ্ছে। আর বেশি দূর গেলে ফিরে আসা কঠিন হবে। জোয়ার এলে সুবিধা পাওয়া যেত। সেটা আসার পথে টের পেলাম। দাড় ধরে রাখা যাচ্ছিল না- যেন হাত থেকে ছুটে যাবে। মাঝে মাঝে স্লুইসগেটের জল বিশাল ঢেউ হয়ে সবকিছু কাপিয়ে দিচ্ছে। তাই কিনারা দিয়েই যাচ্ছিলাম। এক সময় সাগরকে নেমে নৌকাকে টেনে নিতে হচ্ছিল। আমরা দুজন নৌকা থেকে নেমে তীর ধরে তার পাশাপাশি হাটছিলাম। এই নৌকা তার নিজের নয়। পঞ্চাশ টাকায় ভাড়া নেয়া। পঞ্চাশ টাকা দিতে হবে ঘাটকে। এটা সারাদিনের বন্দোবস্ত। যদি আর কোন যাত্রী না নেয় বা মাছ না ধরে তার কাছে পঁয়ত্রিশ টাকায় থাকবে। হারুন মাঝিও তার জেলেগিরির পুজির জন্য ধার দেনা করেন। তবে প্রতিবছর না। ইলিশ দিতে পারবে কিনা- জানালো- পারবে। কেজি দুইশ চল্লিশ টাকা। যদিও লক্ষীপুর বাজারে চারশ পঞ্চাশ টাকা দর।

এইসব কথাবার্তা চলছিল আকাশ আর মেঘ দেখে দেখে। কথায় মশগুল হতে কখন যে আকাশ কালো পোশাক পড়ে নিলো খেয়ালই ছিলো না। ঘোলা জল রূপালী রং ধরেছে। দেখার মতই রং। এই রঙটা আমাদের বেশ পছন্দ হয়েছে। … নদীর জল রূপালীও ভালো। আমরা ইতোমধ্যে আবার নৌকায় চেপে বসেছি। কিন্তু নৌকায় বৃষ্টিতে ভেজা আমাদের পোষাবে না। তাড়াতাড়ি চলছি। তীরে ফিরে ছবি তোলা আর জেলেদের নৌকায় উকিঝুকি মারার ফুরসতই পেলাম না। ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি। দে দৌড়। পেছনে তাকিয়ে দেখি দিগন্তে অদ্ভুত রূপালী আলো। সেই আভাতে ফুটে আছে রং করা নৌকাগুলো। সেই মানুষগুলোর জীবন আরো সজীব ও রঙিন হোক।

হোটেলের নাম জিহাদ। জিহাদ হোটেলে ইলিশ মাছ দিয়ে ভাত খেয়ে লক্ষীপুরের দিকে যাত্রা। মাছ তাজাই ছিলো। ঝালটা বেশ লেগেছে। আসার পথে দেখেছিলাম তিতা খাঁ মসজিদ। যাওয়ার পথে দেখব দালাল বাজার জমিদার বাড়ি ও কামানখোলা জমিদার বাড়ি। সামনে কখনো আসলে রামগতির চর আলেকজান্ডারের ঘাট ও আরো কিছু মসজিদ দেখব। পেছনে সরে যাচ্ছে। সাথে রেখে যাচ্ছিলাম মেঘনার আকাশ। সে আকাশ শরতের আকাশ। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি পড়ছে। তারপরও বাইরে তাকিয়ে আছি- এখন আকাশ দেখার সময়। কিছুই হারাতে চাই না।

> লেখাটি চট্টগ্রামের মাসিক পত্রিকা ‘দখিনা’-য় প্রকাশিত।

Comments

comments

14 thoughts on “মেঘ দেখার দিনে মেঘনায়

      • সবসময় ….
        ‌কালুর ঘাট ইস্পাহানী জুট মিলে কর্ণফুলীর পাশে আমার শৈশব কেটেছে… সেই সময়ের কর্ণফুলীর (১৯৭৯ -) কথা ভোলা খুব কঠিন ।

        • ইস্পাহানী জুট মিলেই তো জোয়ারের সময় পানি ঢুকে। একবার গেছিলাম। ঐখানে আমার এক বন্ধু বড় হইছিলো। কর্ণফুলীতে নৌকায় ভাসছি। খুব স্বচ্ছ দিনে।

  1. এমন করে যদি আবার বের হতে পারতাম। কতদিন প্রান খুলে এমন আকাশ দেখার চেষ্টাও করি নাই।
    কারখানা কিসের জানতে চাই! বুঝতে পারছি না…

    • জ্বি। মন্দ হতো না। হঠাৎ একদিন মনে হলো- এসব ছবি দিয়া কি হয়! নিজেরে দেখানোর বাসনা। তারপর ফেসবুক প্রোফাইলের ফটোগুলো ওনলি মি করলাম। এরপরও কিছু ফটো রয়ে গেছে। ভালো থাকুন।

  2. A very interesting article, Once I got the chance to visit that Moju Chowdhury’r Hat. I do enjoyed the beauty. This article reminded me that moments. Thanks………..

    • পুরানা কথা মনে করাইয়া দিতে পেরে ভালো লাগল। সামনের ঈদে রামগতি ঘাটে যেতে পারি।
      লক্ষীপুরে চমৎকার কিছু মসজিদ ও জমিদার বাড়ি আছে।

      শুভ কামনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *