আপনারে চেনা চেনা লাগে!

জীবনে অনেকবার শুনছি আপনারে চেনা চেনা লাগে। এই কথা আমার কল্পনা শক্তি বাড়াইছে। মাঝে মাঝে মনে হয়- একই মানুষ অনেক জায়গায় থাকে। তারা কেউ কাওরে চিনে না। যদি হয়, আমরা কিভাবে জানব? আজব কল্পনা। বিষয়টাকে এমনে ভাবা যায়- সবগুলা মানুষ আসলে এক। শুধুমাত্র নিজেরে চেনার জন্য তারে নানারূপে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা হয়েছে- তাইলে নিজেরে অনেক হিসেবে কল্পনা করার ভালো মওকা পাওয়া যায়। শুধু তাই না- মানুষরে কেন ভালোবাসতে হবে তারও ভালো উপায় মেলে। যদিও এটা ব্যক্তিতান্ত্রিক বা কিছুটা মানবতাবাদের স্বার্থপরতায় দুষ্ট। বড় পরিসরে এর ধর্মতাত্ত্বিক, নৈতিক বা রাজনৈতিক মানে তৈরি করা যায়। সেই কথা তোলা থাক। তারপরও কি কষ্ট লাগে না। এই একটা আমিকেই চিনি না।

এই পোষ্টের চেনা চেনা লাগার বিষয়টা নিছক চেহারা সুরতের বিষয়। নানান মানুষের এই চেনা জানার  উসিলায় আমার কল্পিত বাড়ি চট্টগ্রাম, লক্ষীপুর, পাবনা, বরিশাল নানান জায়গায় হতে পারে। হয়তো কারো পাশের বাড়ির ছেলে, কারো বন্ধুর ভাতিজা, অথবা মেয়ে ক্লাসমেটের ভাই।

একবার তো একজন জোর ধরে নিয়ে যাচ্ছিল। ভাগ্যিস, সে নিতান্ত বাচ্চা ছেলে ছিলো। আমি নাকি ক্লাস নাইন ফেল করে বাড়ি থেকে পালিয়ে আসছি। তখন ইউনিভার্সিটি ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি। আমার মা নাকি কাঁদতে কাঁদতে অন্ধ হয়ে গেছিলো। তারা নাকি জনকন্ঠ হারানো বিজ্ঞপ্তি দিছিলেন। সেই ছেলেরে বুঝাতে পারি নাই। তারে বলেছিলাম পরদিন এক জায়গায় আসার জন্য। সে আসছিলো কিনা জানি না। সেদিন অনেক বেলা পর্যন্ত ঘুমিয়ে ছিলাম। তবে সেই মায়ের জন্য বেশ কষ্ট হইছে। হয়রত ইয়াকুব যেমন হযরত ইউসুফের জন্য কাঁদতে কাঁদতে অন্ধ হয়ে ছিলেন। তেমনি তিনি নিশ্চয় ছেলেকে পাইলে চোখ ফিরে পাবেন। এমনকি আমিও কাহিনীটা কিছুটা বিশ্বাস করছিলাম। সিনেমায় যেমন স্মৃতিবংশ হয় , এমন!

একজনের মানুষের সাথে আরেকজনের চেহারার মিল এটা অবিশ্বাস্য। কেন অবিশ্বাস্য? হতে পারে, আমি এমন কাউকে দেখি নাই। তবে এমন তো হয়- একজনকে দেখলে আরেকজনের কথা মনে পড়ে। হয়তো বিশেষ কোন আচরণ। যেমন- বিশেষ দিকে তাকানো, হাঁটা, কথা বলা ইত্যাদী। তবে আমার মতো কেউ যদি থাকে- রোমাঞ্চকর। তাই না!

একবার তো আমার চেহারার সাথে মিল পরখ করতে গিয়া বাংলা বিভাগের এক মেয়ের সাথে প্রেমই হয়ে যাচ্ছিল। তার কিছু জিনিস খুবই অপছন্দ হইছিলো। অতিরিক্ত ফর্সা, সবসময় ছাতা ইউজ করে এবং হিসেবী। তো এবার সর্বশেষ কাহিনীটা বলি-

>আপনাকে চেনা চেনা লাগছে?

>আমারে চেনা চেনা লাগার তো কথা না। এই মুলুকে এর আগে আমি আসি নাই।

>তাইলে মনে হয় টিভি-তে দেখছি!

>টিভিতে?

>মনে পড়ছে আপনার চেহারা এক গায়কের মতো।

>কোন গায়ক?

>নাম তো জানি না। সে দক্ষিণ আফ্রিকার গায়ক।

>আর মানুষ পাইলা না। তার চামড়া নিশ্চয় কালা না। আমিও তত সাদা না। সাদা গায়ক হইলেও তো সমস্যা। সেইখানকার সাদা শুনছি বদ কিসিমের।

এটা তো বাঙ্গাল মুলুক পার হইয়া একদম বৈশ্বিক হইয়া গেলো। আল্লাহার কাছে শুকরিয়া। এইছাড়া উপায় কি! এগারো বছর বয়সী সাগর (লক্ষীপুরের মেঘনা নদীতে মাছ ধরে) এই বিষয়ে ক্ষান্ত দিয়া কইলো-

>নোয়াখালীর মানুষ খারাপ।

>কেন তারা কি করছে?

>তারা একবার ধরাধরি করে আমার নৌকায় উঠছে। শেষে টাকা না দিয়া চলে গেছে।

>আমরা এমন না।

>তা ঠিক। সব মানুষ তো সমান না।

হয়তো চেহারায় মিল পাওয়া যায় না বলেই ‘সব মানুষ সমান না’। সব মানুষ সমান হইলে তো এই চেনা চেনা লাগার একটা সমাধান পাওয়া যায়! আচ্ছা, আমরা মন নিয়ে কথা বলতেছি না কেন…..

*লক্ষীপুরের আরো কথা হবে পরের পোষ্টে: মেঘ দেখার দিনে মেঘনায়।

*ফটো: শাহীন

Comments

comments

7 thoughts on “আপনারে চেনা চেনা লাগে!

  1. হা হা হা…।। পোষ্টটা অন্য ব্লগে পড়ে এখানে এসে কমেন্ট করলাম।
    আমার নিজেও এই সমস্যা আছে। একটা ঘটনা না বলে পারছি না… কিছুদিন আগের কথা। কয়েক বন্ধু মিলে ইন্ডিয়া যাচ্ছিলাম। আমাদের এয়ার পোর্টে এক মেয়ে এসে আমাকে বলল, সালাম ভাই কেমন আছেন? আমি আকাশ থেকে পড়লাম। আমার বন্ধুরা এর পর থেকে আমাকে সারা পর জ্বালিয়ে মারছিল, সালাম ভাই সালাম ভাই বলে!

    পরে তিনি সরি বলে চলে গেলেন। যাবার আগে জানিয়ে গেলেন, আমার চেহারা নাকি তার এক পরিচিত সালাম ভাইয়ের ময়, হুবহু।

    আপনার জন্য শুভেচ্ছা। আফ্রিকান গান শিখেন কাজে লাগবে একদিন!

    • হা হা হা।
      আমার আসলে এই বিষয়ে পোষ্ট লিখার ইচ্ছে ছিলো না। কারণ- মানুষের মিল-অমিল নিয়া আমার কিছু চিন্তাধারা আছে। এই ছাড়া সেই ছোট্ট সুজন আর বড় সুজনের ধারাবাহিকতা কি- সেইটা একটা ব্যাপার।

      ঘটনা হলো শেষের কথপোকথনটা মনের খেয়ালে লিখে মনে হলো- আগে পড়ে কিছু কথা যোগ করে পোষ্ট আকারে দেয়া যায়। এই আর কি!

      আপনার ঘটনা শুনে মজা পেলাম। তাও আবার বন্ধুদের সামনে। আফ্রিকান মাসাইদের একটা গান ইস্কুলে থাকতে মুখস্ত করছিলাম। এখন অবশ্যই মনে নাই। ট্রাই করা যেতে পারে।

      ভালো থাকুন।

    • প্রায় বছরখানেক আগে একটা পোষ্ট পড়ছিলাম কোন একটা ব্লগে। সেখানে লিংক দেখে এডসেন্সের জন্য ব্লগের এড্রেস ও জেনর দিছিলাম। দুইমাস আগে থেকে এড দেখা যাচ্ছে, যদিও খুব একটা ক্লিক করে না কেউ।

      ড্যাশবোর্ডের সেটিংস-এ ওয়ার্ডএডস নামে একটা অপশন আছে। সেখানে ক্লিক করেন। এড চালুর অপশন পাবেন। ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *