তালাল আসাদ

[নৃবিজ্ঞানী তালাল আসাদ পেশায় শিক্ষক, আমেরিকার নিউ ইয়র্কের সিটি ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনা করছেন। ঔপনিবেশিক উৎস ও প্রকরণজাত শাস্ত্র হিসেবে সাম্রাজ্যিক প্রকল্প থেকে পরিচালিত অ-পশ্চিমী জগতকে ‘বিষয় বানিয়ে বিদ্যা উৎপাদন ব্যবসা তার হাতে পড়ে বড়সড় একটা ঝাকুনি খায়। তিনি একেবারে আরম্ভেই মোকাবেলার সূচনা করেন, এই শাস্ত্রের অনুমান, পাটাতন আর উদ্দেশ্যকে। এরই আদি নিদর্শন তার সম্পাদিত অ্যানথ্রপলজি অ্যান্ড কলোনিয়াল এনকাউন্টার (১৯৭৩) বইটা। নৃবিজ্ঞানের অভ্যাসের আওতায় ফেলে পশ্চিমকে সাব্যস্ত করার কাজ শুরু করেন সেই থেকে। ঔপনিবেশিক কর্তাকে উপনিবেশি প্রজার অজ্ঞান উদ্ধারের জন্য বাছাই করে তিনি আধুনিকতার ইতি-আদি-আকার ও বিকার প্রদর্শনে রত হন। গোড়ায় গিয়ে গাথুনির তলা এবং মালমশলার স্বরূপ সংক্ষেপ করেছেন জিনিয়লজি অব রিলিজিয়ন (১৯৯৩) বইটাতে। ধর্ম মুক্ত নিখাদ ইহজাগতিকতা বা দুনিয়াদারিতে পিছিয়ে থাকায় প্রাচ্য বিশেষ, মুসলমানদের দুর্দশার যে অন্ত নাই সেই বয়ানের চাকচিক্যময় বাহিরানা আর অন্দরের ঐতিহাসিক বাসনার বসন খুলে তিনি আসল মুখখানা হাজির -নাজির দেখাতে কোশেশ করেছেন ফরমেশনস অব সেকুলার (২০০৩) বইটাতে। আধুনিকরাষ্ট্র ও রাজনীতির নিরন্তর দাওয়াইপত্রে ইসলামকে যেভাবে আদিভৌতিক বিভীষিকা বানানোর তালে মজেছে তার চলন ও চরিত বিশেষেণ তিনি তাদেরই ইতিহাসকে সাক্ষী মেনেছেন সর্বশেষ অন সুইসাইড বম্বিং (২০০৭) বইতে। এই লেখাটি বৃটেনের ক্যাম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে গত আগস্ট ২০১০ দেয়া তালাল আসাদের বক্তৃতা অবলম্বনে তৈরী।]

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.