সাদাত হোসাইনের ‘নিঃসঙ্গ নক্ষত্র’ পড়ার পর…

সাদাত হোসাইন বেশ আয়োজন করে লেখেন। তা-ই মনে হলো সর্বশেষ উপন্যাস ‘নিঃসঙ্গ নক্ষত্র’ পড়তে পড়তে। মোটামুটি সময় নিয়ে একটা গল্প বলতে চান তিনি। টুকরো টুকরো ঘটনা নয়, বরং মুহূর্তগুলোকে জোড়া দেন চুপচাপ, হঠাৎ উল্লফন খুব একটা চোখে পড়ে না। কিন্তু সময় তো বয়ে চলে। এ চলাচলের মধ্যেই ঘটনা চলমান বটে। এ ভাবটা বজায় রাখা দারুণ…

কে কারে চেনে না!

তোমারে চিনি না আমি। ‘তুমি’ কে? আর ‘আমি’? তুমি আর আমি কি একজন? নিজের সম্পর্কে বলা? নিজেকে ‘অপর’ করে দিয়ে চেনার তারিকা মন্দ না। প্রশ্ন হতে পারে ‘আমি’র গোলকধাঁধা থেকে মানুষ বেরুতে পারে কি-না। অন্তত ব্যক্তি মানুষ সর্বস্ব হয়ে উঠার এ জগতে নিজেকে বিচার করার ক্ষেত্রে। নাকি, ‘আমি’ ও ‘তুমি’ কোনো এক পরম জগতে এক…

পাঠকের লেখায় ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’

ইফতেখার জামিল লিখেছেন আমার একজন প্রিয় মানুষ ওয়াহিদ সুজন ভাই_ তার প্রাথমিক পরিচয়, চিটাগাং বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের ছাত্র, বিনোদন সাংবাদিক ও আমলি ইমানদার। দর্শন , বিনোদন-সমালোচক ও আমলি ইমানদার , এই তিন বৈশিষ্ট্য একসাথে পাওয়া তো ভাগ্যের ব্যাপার বটেই এবং একই সাথে নতুন নাগরিক সমাজে লড়াইয়ের নতুন সমীকরণও বটে। কয়েকদিন আগে তার একটা বই প্রকাশিত হয়েছে,…

আয়নাবাজি ও অবশিষ্ট

‘আয়নাবাজি’র শুরুর দৃশ্যে একটি লাশ দেখা যায়। হাসপাতালে। লাশটা কার? পুরো সিনেমা বিছড়াইয়া তার হদিস পাই নাই। দুইজনকে জিজ্ঞেস করে দুই ধরনের উত্তর পাইলাম। এবেলায় ‘লাশের রাজনীতি’র দিকে পা না বাড়াইয়া স্মৃতির আয়নায় ‘আয়নাবাজি’র অবশিষ্ট দেখা যাক! সিনেমাটার মূল চরিত্র আয়না (চঞ্চল চৌধুরী)। সিনেমায়ও তিনি অভিনেতা। যার অভিনয়ে বুঁদ হয়ে দর্শক হয়ত গল্পে না থাকা…

পিপিলীকার পাখা গজায় ‘অ্যান্ট ম্যান’কে বহিবার তরে

মার্ভেল কমিকস যে পিপিলীকার উপ্রে দখল নিয়া রাখছে— আগে জানতাম না। ‘অ্যান্ট ম্যান’ সিনেমাখান দেইখা পরিষ্কার হইল। এটা শরীরি দখলমাত্র– মন মগজের লেশ নাই। এ কথার কারণ আছে। দিন কয়েক আগে একজন জানাইলেন মানুষ মানে হইল ‘হইার মধ্যে জীববৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি’ আছে। সে মোতাবেক পিপিলীকা জীববৃত্তিসম্পন্ন, তার বুদ্ধিবৃত্তি নাই, অথবা থাকলেও সমীহ করার স্থরে না…

ওয়ালীউল্লাহ পাঠ : নাই এবং আছে

এক. ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত ‘কাঁদো নদী কাঁদো’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ (আগস্ট ১৫, ১৯২২-অক্টোবর ১০, ১৯৭১) তৃতীয় ও শেষ উপন্যাস। বিখ্যাত লেখকের বিখ্যাত এই উপন্যাসের এমনই ধারা- উদ্বেগসঙ্কুল পাঠকদের খুবই উদ্বেগের মধ্যে রাখে। অথবা পাঠকদের আপন আপন জীবন আর তার অনিশ্চিত বিস্তৃতি নিয়ে উদ্বেগসঙ্কুল করে তোলে। তাই, ক্ষীণকায় এই উপন্যাস পড়া চাট্টিখানি ব্যাপার নয়। নিত্য আহজারিতে দেহ-মন…