সাদাত হোসাইনের ‘নিঃসঙ্গ নক্ষত্র’ পড়ার পর…

সাদাত হোসাইন বেশ আয়োজন করে লেখেন। তা-ই মনে হলো সর্বশেষ উপন্যাস ‘নিঃসঙ্গ নক্ষত্র’ পড়তে পড়তে। মোটামুটি সময় নিয়ে একটা গল্প বলতে চান তিনি। টুকরো টুকরো ঘটনা নয়, বরং মুহূর্তগুলোকে জোড়া দেন চুপচাপ, হঠাৎ উল্লফন খুব একটা চোখে পড়ে না। কিন্তু সময় তো বয়ে চলে। এ চলাচলের মধ্যেই ঘটনা চলমান বটে। এ ভাবটা বজায় রাখা দারুণ…

কে কারে চেনে না!

তোমারে চিনি না আমি। ‘তুমি’ কে? আর ‘আমি’? তুমি আর আমি কি একজন? নিজের সম্পর্কে বলা? নিজেকে ‘অপর’ করে দিয়ে চেনার তারিকা মন্দ না। প্রশ্ন হতে পারে ‘আমি’র গোলকধাঁধা থেকে মানুষ বেরুতে পারে কি-না। অন্তত ব্যক্তি মানুষ সর্বস্ব হয়ে উঠার এ জগতে নিজেকে বিচার করার ক্ষেত্রে। নাকি, ‘আমি’ ও ‘তুমি’ কোনো এক পরম জগতে এক…

ওয়ালীউল্লাহ পাঠ : নাই এবং আছে

এক. ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত ‘কাঁদো নদী কাঁদো’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ (আগস্ট ১৫, ১৯২২-অক্টোবর ১০, ১৯৭১) তৃতীয় ও শেষ উপন্যাস। বিখ্যাত লেখকের বিখ্যাত এই উপন্যাসের এমনই ধারা- উদ্বেগসঙ্কুল পাঠকদের খুবই উদ্বেগের মধ্যে রাখে। অথবা পাঠকদের আপন আপন জীবন আর তার অনিশ্চিত বিস্তৃতি নিয়ে উদ্বেগসঙ্কুল করে তোলে। তাই, ক্ষীণকায় এই উপন্যাস পড়া চাট্টিখানি ব্যাপার নয়। নিত্য আহজারিতে দেহ-মন…

মধ্যাহ্নের উকিল মুন্সী

এক. উকিল মুন্সীর জম্ম নেত্রকোনার খালিয়াজুড়িতে। জীবনের শেষ চল্লিশ বছর কাটিয়েছেন মোহনগঞ্জ উপজেলার জৈনপুরে। ১৩৮৫ বাংলা সনের (১৯৭৮ ঈসায়ী) পৌষ মাসের দুই তারিখে তিনি মারা যান। বেতাই নদীর কূলে জৈনপুরের সেই বাড়ির উঠোনে তার কবর। হুমায়ুন আহমেদের জম্ম নানার বাড়ি মোহনগঞ্জ উপজেলা সদরে। উকিল মুন্সী যে বছর মারা যান সে বছর হুমায়ুনের বয়স ৩১। ১৯৯৪…

সেলিব্রেশন অব লাইফ

‘মরবার পর কী হয়?’ এটি হুমায়ুনের অচিনপুর উপন্যাসের প্রথম লাইন। আমি হুমায়ুন প্রায় সবগুলোই বই-ই পড়েছি। নানা বইয়ে মৃত্যু  উঠে এসেছে নানাভাবে। সাক্ষাৎকারেও তিনি নানান কথা বলেছেন। মৃত্যু কি? মৃত্যু জীবনচক্রকে পূর্ণতা দান করে। জীবনের শুরু যেখানটায় সেখানে ফিরে যাওয়া। এর মধ্যখানের মর্ম ও মজেজা বিস্তর। মৃত্যুর মর্মও বিস্তর। মৃত্যু কার কাছে নিয়ে যায়, কেন…