যিশু কত দরকারি!

টিভিতে যে অনুষ্ঠানটি নিয়মিত দেখার চেষ্টা করি এখন। জোশ গেটসের ‘এক্সপেডিশন আননোন’। গত হপ্তার একটা এপিসোডে গেছিলেন যিশু ক্রিস্টের জন্মস্থান খুঁজতে। মানে সেই গুহাটা- যেখানে মেরি ও যোসেফের আশপাশে ছিল একপাল পশু। জোশ গেছিলেন ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের তিনটা আলাদা আলাদা জায়গায়। এর মধ্যে বেশি পরিচিত ফিলিস্তিন অংশের চার্চ অব নেটিভিটি। তো, চমৎকার একটা চার্চের পর…

‘সুলতান’ হয়ে উঠা

কয়েক বছর আগের এক সন্ধ্যায় নড়াইলে হাজির হয়েছিলাম আমরা দুই বন্ধু। রাতে থাকার ঠাঁই খুঁজতে একদম প্রাণ জেরবার অবস্থা। অনেক খোঁজাখুঁজির পর একটা হোটেলে হাজির হই। বেশ সস্তায় মিলল দুই বিছানার রুম। সম্ভবত ২৫০ টাকা। হোটেল মালিকের ভাবভঙ্গি বেশ অদ্ভুত। সব মিলিয়ে হরর অভিজ্ঞতা। সকালে বের হতেই আগের দিনের মতো সদর দরোজায় বসা হোটেল মালিক।…

লোরকার শেষ তের ঘণ্টা

দু’জন খসখসে সবুজ উর্দিপরা সিপাহী/ কবিকে নিয়ে গেল টানতে টানতে/ কবি প্রশ্ন করলেন : আমার হাতে শিকল বেঁধেছ কেন?/সিপাহী দু’জন উত্তর দিল না;/সিপাহী দু’জনেরই জিভ কাটা। এই কবির নাম লোরকা, যিনি ঘুমিয়ে আছেন দখিন গ্রেনাডায়। বুকে ধারণ করেছেন সোনালি তৃণভূমির মাধুর্য, স্রোতস্বিনীর কুল কুল ধ্বনি, ঝোড়ো বাতাস কেপে ওঠা প্রজাপতির ওম। আকাশ জানে, বাতাস জানে,…

এই লঘু হাওয়ার ফাগুন

‘ফাগুন হাওয়ায়’ না দেখেও আমরা হাততালি দিতে পারি। যেহেতু ভাষা আন্দোলনকে এতকাল সিনেপর্দায় না দেখেই থাকতে হয়েছে। সেই পঞ্চাশ বছর আগে জহির রায়হানের ‘জীবন থেকে নেয়া’য় প্রভাত ফেরি দেখি আমরা। শুনি ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানটিও। তারপর বোধহয় এ প্রসঙ্গ সিনেমায় আর আসে নাই। আসলেও মশহুর কিছু হয় নাই- হয়তো! ফলত বিষয়বস্তুর কারণেই…

সুপারহিরোর নৈতিক ধাঁধা

গত এক দশকের মধ্যে হলিউডের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত সিনেমা ছিল এপ্রিলে মুক্তি পাওয়া ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’। এই উত্তেজনা উসকে দেয় মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সের আগের কিস্তি ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’। যেখানে ভিলেন থ্যানোস (জোশ ব্রোলিন) ছয়টি ইনফিনিটি স্টোন (সৌল, টাইম, স্পেস, মাইন্ড, রিয়্যালিটি ও পাওয়ার) নিজের করায়াত্তে এনে মহাবিশ্বের অর্ধেক প্রাণীকে আক্ষরিক অর্থেই গায়েব করে দেন। যার মাঝে ছিল…

ক্ষুধার রাজ্যে একলা আমজাদ হোসেন

“আমরা কয়েকজন একসঙ্গে শুরু করলাম— আমি, কবির আনোয়ার, পরে আলমগীর কবির; আলমগীর কবির ‘জীবন থেকে নেয়া’র সেটে প্রথম এল, বাইরে থেকে, তার সঙ্গে ১৬ মিমি ক্যামেরা ছিল, এরপর আস্তে আস্তে সবাই কিন্তু চলে গেছে। কবির আনোয়ারের ছবি মানুষ দেখে নাই। ঝরতে ঝরতে আমি একলাই একটা পরিত্যক্ত বাড়িতে একলা একটা প্রদীপ হয়ে কোনো রকমে জ্বলছিলাম’— ফাহমিদুল…