লোরকার শেষ তের ঘণ্টা

রিস্টোর করা লোরকার ছবি

দু’জন খসখসে সবুজ উর্দিপরা সিপাহী/ কবিকে নিয়ে গেল টানতে টানতে/ কবি প্রশ্ন করলেন : আমার হাতে শিকল বেঁধেছ কেন?/সিপাহী দু’জন উত্তর দিল না;/সিপাহী দু’জনেরই জিভ কাটা।

এই কবির নাম লোরকা, যিনি ঘুমিয়ে আছেন দখিন গ্রেনাডায়। বুকে ধারণ করেছেন সোনালি তৃণভূমির মাধুর্য, স্রোতস্বিনীর কুল কুল ধ্বনি, ঝোড়ো বাতাস কেপে ওঠা প্রজাপতির ওম। আকাশ জানে, বাতাস জানে, ফুল জানে, প্রজাপতি জানে, বীণা জানে- শুধু মানুষ জানে না। লোরকা কোথায় শুয়ে আছেন?

কয়েক বছর আগে স্পেনের ঐতিহাসিক মিগুয়েল কাবাল্লেরা পেরেজ দাবি করছেন, তিনি কবি, নাট্যকার ও মঞ্চ পরিচালক ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকার মৃত্যু রহস্যের কিনারায় পৌঁছেছেন। তিনি জানেন লোরকা কোথায় শুয়ে আছেন। তার আগে অনেকেই এই দাবি তুলেছিলেন, কিন্তু এইবারের দাবির মধ্যে অনেক নতুন নতুন তথ্য বের হয়ে এসেছে। যদি তাই হয়,সত্তর বছর বয়সী এক রহস্যের সমাধান হন। লোরকার নিজ শহরের এই ঐতিহাসিক তার দাবিগুলো তুলেছেন সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত ‘দ্যা লাস্ট থার্টিন আওয়ারস অব গার্সিয়া লোরকা’ বইয়ে। শিরোনাম বলে দেয় এই বইয়ে লোরকার জীবনের শেষ তেরো ঘণ্টায় কী ঘটেছিল তা বর্ণনা করা হয়েছে।

ইতিহাসের আরও অনেক রক্তাক্ত ঘটনার মতো স্পেনের গ্রেনাডা লোরকার জন্ম, বেড়ে ওঠা এবং মৃত্যুর সাক্ষী। ১৮৯৮ সালের ৬ জুন গ্রেনাডা শহরের কাছে ফুয়েন্তে ভাক্যুয়েরসে লোরকার জন্ম। তার বাবা ছিলেন একজন সচ্ছল কৃষক। লোরকার তরুণ বয়সে স্পেন অতিক্রম করছিল সৃজনশীলতার অনন্য সময়। কাব্য, সংগীত, নাটক, চলচ্চিত্র বা শিল্পকলা নতুন নতুন আবির্ভাবে ঋদ্ধ। বিস্ময়কর সব নিরীক্ষা ও জিজ্ঞাসা ভবিষ্যৎ সময়ের জন্য রেখে যাচ্ছিল। লোরকা ছিলেন উনিশ শতকের বিখ্যাত ‘জেনারেশন অব সেভেন্টিন’ এর একজন। তার বন্ধুদের মধ্যে ছিলেন পরাবাস্তববাদী চিত্রশিল্পী সালভাদোর দালি, কবি রাফায়েল আলবারটি, কবি পাবলো নেরুদা, বুলফাইটার-কবি-নাট্যকার ইগনাসিও সানচেস মেহিয়াস, চিত্র পরিচালক লুই বুনুয়েলসহ অনেকেই। লোরকা প্রথম জীবনে জিপসি ও ফ্লেমিংগো সংস্কৃতি দ্বারা প্রভাবিত হন। তার উল্লেখযোগ্য বই হলো ব্লাড ওয়েডিং, ইয়ারমা অ্যান্ড দি হাউস অব বার্নাডা এবং এলবা ইত্যাদি।

লোরকা ও দালি

তখনকার দুনিয়ার টালমাটাল রাজনৈতিক হাওয়া স্পেন দেশেও বইছিল। বিশ্ব জুড়ে থাকা সমাজতন্ত্রী চিন্তার হাওয়া লেগেছিল স্পেনেও। তখনকার শিল্প-সাহিত্যিকদের নানাভাবে প্রভাবিত করেছিল। চিন্তায় ও রচনায়। ক্ষমতায় ছিলো সমাজতন্ত্রী দ্বিতীয় স্প্যানিশ রিপাবলিকান। ১৯৩৬ সালে সেই সরকারকে উৎখাত করে জেনারেল ফ্রান্সেসকো ফ্রাঙ্কোর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনালিস্টরা দখল করে নেয়। যার পক্ষে মদদ দেয় সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো। লোরকা ১৯৩৬ সালের ১৮ আগস্ট স্পেনীয় গৃহযুদ্ধের প্রথমদিকে গ্রেপ্তার হন। ধারণা করা হয়, আরও অনেকের সঙ্গে পরের দিন ১৯ আগস্ট ফ্রাঙ্কোর ঘাতক বাহিনীর ফায়ারিংয়ে তিনি নিহত হন। এই বাহিনীর হাতে স্পেনের হাজারো মানুষ নিহত হয়। আরও অনেকের লোরকার লাশ কখনো খুঁজে পাওয়া যায় নাই। ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত তার প্রকাশনা, এমনকি তাকে নিয়ে কথা বলার ওপর ফ্রাঙ্কো সরকারের নিষেধাজ্ঞা ছিলো। তারপর থেকে তার লেখাগুলো স্পেনে আস্তে আস্তে উন্মুক্ত হতে শুরু করে। ২০০৮ সালে স্পেনের আদালত তার মৃত্যু নিয়ে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান চালায়।

If I die,
leave the balcony open.
The little boy is eating oranges.
(From my balcony I can see him.)
The reaper is harvesting the wheat.
(From my balcony I can hear him.)
If I die, leave the balcony open!

কাবাল্লেরা তার কাজের জন্য গ্রেনাডার পুলিশ ও মিলিটারি আর্কাইভ ব্যবহার করেন। এই কাজে তিনি তিন বছর সময় ব্যয় করেছেন। এই অনুসন্ধানে বের হয়ে এসেছে, ফ্রাঙ্কোর সেই ঘাতক বাহিনীর সদস্য কারা ছিলো। লোরকা যদিও কমিউনিস্ট বিরোধী অভিযান চলাকালে গ্রেপ্তার ও নিহত হন,এটা শুধুমাত্র তার কমিউনিস্ট হওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল না। সেই সময়কার গ্রেনাডার অভিজাতদের নিজেদের মধ্যকার স্বার্থের দ্বন্দ্ব এর সঙ্গে জড়িত। যেটাকে গ্রোত্রীয় রাজনীতি বলা যায়। সেই মতে,লোরকার মৃত্যু সেই সময়কার গ্রেনাডার ধনী পরিবারগুলোতে দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দ্বন্দ্বের সঙ্গে যুক্ত। গ্রেনাডার এই গ্রোত্রবাদ শরিকানার মধ্যে লোরকার বাবাও ছিলেন। শুধু তাই নয়, লোরকার মৃত্যু বিষয়ে তার পরিবারে মধ্যে দীর্ঘ নীরবতা রয়েছে।

খুঁটির সঙ্গে বাঁধা হলো কবিকে,/তিনি দেখতে লাগলেন/ তার ডান হাতের আঙুলগুলো/ কনিষ্ঠায় একটি তিল,অনামিকা অলঙ্কারহীন/ মধ্যমায় ঈষৎ টনটনে ব্যথা,তর্জনী সঙ্কেতময়।

কাবাল্লেরা মৌখিক সাক্ষীর চেয়ে দলিল দস্তাবেজের ওপর জোর দিয়েছেন বেশি। কারণ মুখে সাক্ষ্যদানকারী ইতিহাস বিস্মৃত হওয়ার ও মনগড়া কথা বলার সম্ভাবনা আছে। তিনি এই কাজে নির্ভর করেন উনিশ শ ষাট দশকের স্পেনের একজন সাংবাদিকদের লেখার ওপর, যার নাম এডোরাডো মোলিনা ফারারডো। মোলিনা ছিলেন অতি দক্ষিণপন্থী ফ্যালাঞ্জো দলের সদস্য। এই দল স্বৈরাচারী জেনারেল ফ্রাঙ্কোর সরকারকে সমর্থন করত।

কাবাল্লেরার মতে, মোলিনার রাজনৈতিক অবস্থানের তার দেওয়া তথ্যগুলোর সত্য হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। মোলিনা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সঙ্গে সহজে কথা বলার সুযোগ পেরেছেন। তাই মহাফেজখানায় তার লেখায় পাওয়া লোরকার কবরের ঠিকানা প্রায় নিশ্চিত। মোলিনার লেখাজোকা গ্রেনাডার ভিনজার গ্রামের একটি স্থানকে নির্দেশ করে। এই জায়গা সম্পর্কে বলা হয়,পার্শ্ববর্তী দুটি গ্রামের খামারে পানি সরবরাহের জন্য এখানে খান খনন করা হয়েছিল সেই সময়। এই জায়গা থেকে আধ কিলোমিটার দূরে আছে আরেকটি বিতর্কিত স্থান। ঐতিহাসিক আইয়ান গিবসন ১৯৭১ সালে দাবি করেছিলেন সেখানে লোরকার কবর আছে। ২০০৮ সালে স্পেনের আদালত এই বিষয়ে অনুসন্ধানের সময় এখানে খননের অনুমতি দেয়। শুরুতে এই খোঁড়াখুঁড়িতে লোরকার পরিবারের অমত ছিলো। এই নিয়ে অনেক তর্ক-বিতর্ক শেষে তারা সায় দেয়। পরে, ২০০৯ সালে এই স্থানটি খনন করা হয়, কিন্তু কাউকে কবর দেওয়ার কোন চিহ্ন পাওয়া যায় নাই।

নির্দেশিত স্থানটি কাছের গ্রামবাসীর চোখ-কানের আড়ালে। রাতের বেলায় কাউকে খুন করার জন্য এটা উপযুক্ত জায়গা, আলো জ্বালানো হলে গ্রাম থেকে দেখতে পাওয়ার কোন সম্ভাবনাই নাই। এই খোঁজাখুঁজিতে ঐতিহাসিক দলিল-পত্রের পাশাপাশি লোকবিদ্যা ও প্রত্নতত্ত্বের সাহায্য নেওয়া হয়েছে। সেসব লোক জলের নিচে হারানো বস্তু খোঁজার ক্ষমতার অধিকারী- এমন গুণধারী এক ব্যক্তি পানির নিচে ডুব দিয়ে কোন একসময় সেখানে খনন করার চিহ্ন খুঁজে পেয়েছেন। স্পেনের গৃহযুদ্ধের আধ ডজন গণকবর আবিষ্কারকারী প্রত্নতত্ত্ববিদ জাভিয়ার নাভারোও কাবেল্লোরোর দাবির সঙ্গে একমত।

Benjamín Jarnés, Humberto Pérez de la Ossa, Luis Buñuel. Rafael Barradas y Federico García Lorca. Madrid, 1923

প্রথম গুলিটি তার কানের পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেল-/যেমন যায়,/কবি নিঃশব্দে হাসলেন/ দ্বিতীয় গুলিতেই তার বুক ফুটো হয়ে গেল/ কবি তবু অপরাজিতের মতন হাসলেন হা-হা শব্দে/ তৃতীয় গুলি ভেদ করে গেল তার কণ্ঠ/ কবি শান্ত ভাবে বললেন,/আমি মরবো না!/ মিথ্যে কথা,কবিরা সব সময় সত্যদ্রষ্টা হয় না।।

কাবাল্লেরা সেই সময়কার আধ-ডজন পুলিশ আর স্বেচ্ছাসেবকের ঠিকুজি বের করেছেন। তারা ১৯৩৬ সালের ওই সময়ে শ’খানেক অভিযুক্ত বামপন্থীদের ধরে আনেন, যাদের মধ্যে লোরকাও ছিলেন। এই শ’খানেক অভিযুক্তকে খুন করেছিল মাত্র আধ ডজন ঘাতক। তাদের এই কাজের জন্য পাঁচ শ পেসেতা করে বোনাস দেওয়া হয়েছিল,আরও ছিল চাকরির প্রোমোশন। কিন্তু কাবেল্লোরো এদেরকে সরকারি আজ্ঞাবহ জল্লাদ না বলে খুনি বলছেন। কারণ,আগেই বলা হয়েছে এই কাজে অংশগ্রহণকারীদের কয়েকজন পুলিশ বাহিনীর লোক ছিলেন না, তারা স্বেচ্ছাসেবক হয়ে হত্যার কাজটি করে দেন। অন্যদিকে পুলিশবাহিনীর লোকেদের অভিযুক্ত কাউকে খুন না করে বাঁচার কোন উপায় ছিলো না। তাদের অবস্থা হয় মারো নয় মরো। এইসব খুনের সঙ্গে জড়িত একজন পুলিশের দাবি এই কাজ তাকে পাগল করে দিয়েছিল।

কিন্তু তারা কি লোরকাকে চিনত? না, তাদের বেশির ভাগই লোরকাকে চিনত না,এমনকি জানতও না। এমন নয় যে,এর সবাই লোরকার কাব্য পড়ত বা নাটক দেখত। বিশেষত এলিটরাই লোরকার লেখা বেশি পড়ত, তার বিষয়ে আগ্রহী ছিলো। তা ছাড়া হত্যাকারীরা লোরকার চেয়ে তার সঙ্গে মারা যাওয়া দুই অ্যানার্কিস্টকে নিয়ে বেশি আগ্রহী ছিল,যাদের একজনকে খুবই বিপজ্জনক বন্দী মনে করা হতো।

ফায়ারিং স্কোয়াডে এমন একজন পুলিশ ও একজন স্বেচ্ছাসেবক ছিলো,যারা লোরকাকে চিনত। এই দুইজন লোরকার বাবার প্রথম স্ত্রীর আত্মীয়। ডানপন্থী রোল্ডান পরিবারের সঙ্গে লোরকার বাবার রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব অনেক পুরোনো। তারা শহরের ফ্রাঙ্কোপন্থী কর্তৃপক্ষকে লোরকাকে গ্রেপ্তার ও মেরে ফেলতে প্ররোচনা দেয়। লোরকার সৎমায়ের দিকের আত্মীয় পুলিশটি,যার নাম বেনাভাইডেস। সে ছিলো রোল্ডান গ্রোত্রের। কাবেল্লেরো’র দাবি মতে, এই লোক ছাড়া ফায়ারিং স্কোয়াডের কেউ তাদের কৃতকর্ম নিয়ে খুশি ছিলো না।

Then I realized I had been murdered.
They looked for me in cafes, cemeteries and churches
…. but they did not find me.
They never found me?
No. They never found me.
The Fable And Round Of The Three Friends/ Garcia Lorca

‘লিটল অ্যাশেস’ ছবিতে দালি ও লোরকার চরিত্রের অভিনেতা

সেই সুদক্ষ ষাঁড়-লড়িয়ে, কবি ও নাট্যকার ইগনাসিও সানচেস মেহিয়াস। যিনি ছিলেন লোরকার প্রিয় বন্ধুদের একজন। ষাঁড় লড়াইয়ের রিংয়ে সেই প্রিয় বন্ধুর মৃত্যুকে উপজীব্য করে লোরকা ১৯৩৫ সালে ‘ইগনাসিও সানচেস মেহিয়াসের জন্য শোক গাথা’ নামে দীর্ঘ কবিতাটি রচনা করেন। অনেক সমালোচকের চোখে এটা লোরকার সেরা কাজ। ৪টি ভাগে বিভক্ত এই কবিতা বিখ্যাত লাইন হলো, ‘ঘড়িতে তখন বিকেল পাঁচটা। কাঁটায় কাঁটায় বিকেল পাঁচটা’। হয়তো কারো কারো কাছে ঠিক পাঁচটা বাজলে লোরকার কথা পড়ে।

এই লেখায় উদ্ধৃত বাংলা কবিতার লাইন ক’টি নেওয়া হয়েছে ইন্ডিয়ান কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘কবির মৃত্যু : লোরকা স্মরণে’ শিরোনামের দীর্ঘ কবিতা থেকে। এই আমাদের শোকগাথা। যে যুক্তি শোকগাথা নির্মাণ করে,এইবার আমরা সেই শোক গাথাকে বিলোপ করে দিই লোরকার জন্য। আমরা দুনিয়াকে তৃণভূমির মতো প্রশান্তময় করে তুলি- গ্রেনাডার সেই সবুজ তৃণভূমি, লোরকার কবিতায় স্বপ্নের মতো আসে,অশান্ত আত্মাদের বিলাপ মুছে দিয়ে। রাত্রিতে জোছনা ভেঙে পড়ে যেখানটায়- নিঃসংকোচে, পরম মমতায়। ভেঙে দেয় যুক্তি-বুদ্ধির বোবা শাসন। যেখানে একটি পাখি অথবা ফুল অথবা মৃদু বাতাস- আহা!আমরা তাদের মাঝে ভালোবাসার ওম ছড়িয়ে দিই। লোরকার জন্য। লোরকা ঘুমিয়ে আছেন। ঘুমিয়ে আছেন আমাদের ভেতর বাইরে।

আসলেই কি কাবেল্লেরার নির্দেশিত জায়গায় লোরকার কবর আছে? নাকি পুরানের কোন দেবতার মতো, যাকে আর কখনো খুঁজে পাওয়া যাবে না। তারপরও আমরা খুঁজে ফিরি। যদি সেই কবরখানি খুঁজে পাওয়া যায় কেউ কেউ হয়তো প্রিয় কবির কবর ছুঁয়ে আসবেন। জানাবেন ভালোবাসা। যেমন বসন্ত, শরৎ অথবা বৃষ্টিময় বর্ষা আমাদের ছুঁয়ে যায়। হয়তো এখনো প্রতিটি অভিমানী আগস্টে যেদিন লোরকা হারিয়ে গেছেন চিরতরে, সেদিন ফুলে ফুলে ঢেকে যায় লোরকার অচেনা কবর, আমাদের অগোচরে।

ব্যবহৃত কবিতা : সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
রচনাকাল /২০১১

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.